দিনের খবর সারা বাংলা

২২ বছর পর পানিবন্দি কুমুদিনী হাসপাতাল

প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল: দীর্ঘ ২২ বছর পর আবারও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতাল কমপ্লেক্স। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে দেশের প্রধান সব নদ-নদীর পানিপ্রবাহ বৃদ্ধির ফলে টাঙ্গাইলের লৌহজং ও বংশাই নদীতেও এর প্রভাব পড়ে। এতে ১৯৯৮ সালের বন্যার পর ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে আবারও পূর্বের মতো পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এশিয়া খ্যাত এ হাসপাতাল।

এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাসাপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা, ভালো নেই হাসপাতালের চিকিৎসক-সেবিকারাও। তারাপরও করোনাকালীন সময়ে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। হাসপাতাল কমপ্লেক্সে পানি চলে আসায় যাতায়াত করতে হচ্ছে ছোট নৌকায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, অস্বাভাবিকভাবে বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে হাসপাতালে প্রবেশের ৫০০ গজ রাস্তা ও হাসপাতালের ভেতরের সব জায়গায় এখন প্রায় হাঁটুপানি। এছাড়া কুমুদিনী নার্সিং কলেজ, উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, ভারতেশ্বরী হোমস চত্বর, মেডিকেল কলেজের হোস্টেলেও এখন বন্যার পানি। পাশেই লৌহজং নদী থাকার কারণে জোয়ারের পানি হাসপাতালের বিভিন্ন ড্রেন দিয়ে প্রবেশ করছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে প্রতিদিন শত শত রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটিতে হঠাৎ করে এমন পরিস্থিতি হওয়ায় বিগত সময়ের তুলনায় রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের। তবুও সবকিছু এড়িয়ে নিরলসভাবে সেবা প্রদান করছেন প্রতিষ্ঠানটির ডাক্তার থেকে শুরু করে সবাই। সাধারণ কর্মীরাও দিন-রাত একাকার করে কাজ করে যাচ্ছেন।

তবে শিশু ও নারীদের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কথা বিবেচনায় হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশের জন্য ইট দিয়ে অস্থায়ী রাস্তা বানানো হলেও সেটি পানিতে তলিয়ে গেছে।

রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পানির কারণে চিকিৎসা নিতে আসতে চরম ভোগান্তির তৈরি হলেও, হাসপাতালে চিকিৎসার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে পুরো হাসপাতাল চত্বরেই একাধিক স্পিড ব্রেকার থাকায় নৌকা নিয়েও প্রবেশ করা যাচ্ছে না। হাঁটু পানি থাকায় অসুস্থ রোগীদের হেঁটেও নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।

কুমুদিনী হাসপাতালের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) অনিমেষ ভৌমিক জানান, নদীল পাশেই হাসপাতাল হওয়ায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে পানি প্রবেশ করেছে। এর ফলে হাসপাতালে যাতায়াতে সমস্যা হওয়ায় ইট দিয়ে অস্থায়ী রাস্তা বানানো হয়েছিল। কিন্তু পানি বৃদ্ধির ফলে সেটিও ডুবে গেছে। বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে বেঞ্চ দিয়ে নতুন রাস্তা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এমনিতে এ হাসপাতালের প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার রোগী শুধু আউটডোর থেকেই চিকিৎসা নিতো। তবে বন্যার কারণে চিকিৎসাসেবা প্রদানে তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। অপরদিকে সারা বছরই গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী ভর্তি থাকে। বন্যার জন্য সে সংখ্যাও নেমে এসেছে আড়াইশতে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..