প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

২৪ অক্টোবর বিশ্ব পোলিও দিবস

মিজানুর রহমান: পোলিও নামক ভাইরাসজনিত সংক্রামক ব্যাধি পোলিওমাইয়েলাইটিসের সচরাচর ব্যবহার করা সংক্ষিপ্ত নাম পোলিও। এটি আন্ত্রিক ভাইরাস দলের অন্তর্গত। শরীরের অন্ত্রপথেই এটি দেহে প্রবেশ করে থাকে। দূষিত খাদ্য ও পানির সঙ্গে প্রবেশ করার পর পোলিও ভাইরাস রক্তকোষের মধ্যে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে রক্তে সংক্রমণ ঘটায়। পরবর্তী সময়ে ভাইরাস প্রান্তীয় স্নায়ু নিউরনের মাইয়েলিনগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে। এই মাইয়েলিনের প্রদাহ থেকেই মাইয়েলাইটিস কথাটি এসেছে। ফলে আক্রান্ত স্থানে যে পরিণতি পরিলক্ষিত হয় সেটাই হচ্ছে শিথিল পক্ষাঘাত বা পোলিও।

পোলিও রোগীর সংখ্যা বাংলাদেশে আশির দশকেও যথেষ্ট পরিমাণে ছিল। ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশে লাখে পাঁচ বছরের চেয়ে কম বয়সী শিশুদের মধ্যে পোলিও রোগী পাওয়া যেত ৫২ জন। কিন্তু পোলিও নির্মূল অভিযানের অংশ হিসেবে মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা ব্যবহারের ফলে চিত্রটি দ্রæত পরিবর্তিত হয়েছে। এই মুখে খাওয়ার টিকা তৈরি করা হয় জীবন্ত ভাইরাসকে নিস্তেজ করার মাধ্যমে। এই টিকা মুখে ফোঁটা ফেলে খাবার টিকা হিসেবে দেওয়া হয়। প্রতি বছর উদযাপিত জাতীয় টিকাদান দিবসের কর্মসূচি হিসেবে লাখ লাখ টিকাদানযোগ্য শিশুদের মুখে খাওয়ানো হয়। অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের খাওয়ানো হয় এ টিকা।

বাংলাদেশ পোলিওমুক্ত হলেও ২০০৬ সালে এ রোগ থেকে মুক্ত হয় আমাদের দেশ। তবে রোগটি বিশ্ব থেকে পুরোপুরি ম্ক্তু হয়নি এখনও। প্রতিবেশী ভারত এ রোগ থেকে মুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় ২০১৪ সালে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও নাইজেরিয়ার মতো দেশে প্রতি বছর তিন লাখ ৫০ হাজার শিশুর অঙ্গহানি ঘটছে এ মহামারী রোগের প্রভাবে।

বিশ্বে পোলিও নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছে রোটারি ক্লাব অব ইন্টারন্যাশনাল। তারা বলেন, দেশ থেকে ৯৯ ভাগ পোলিওমুক্ত করা গেলেও এখনও এক ভাগ পোলিও দূর করা সম্ভব হয়নি। তাদের মতে, নতুনভাবে ফিরে আসতে পারে এ রোগ। পোলিও একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। পাঁচ বছরের নিচের শিশুরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। যদি একটি শিশু এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তাহলে এটি তার মৃত্যু কারণও হতে পারে। এ রোগ খুব কম সময়ের মধ্যে মানুষের স্নায়ুতে প্রভাব ফেলে রোগীকে পুরোপুরিভাবে বিকলাঙ্গ করে দিতে পারে।

রোগটি কীভাবে আবার ফিরে আসতে পারে সে ব্যাপারে উদাহরণ দিয়ে একজন রোটারিয়ান বলেন, যদিও নাইজেরিয়া পোলিওমুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষিত হয় ২০১৫ সালের দিকে, কিন্তু চলতি বছরে নতুন করে সে দেশে তিনটা শিশুর মধ্যে পোলিও ধরা পড়ে।

বাংলাদেশে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে পরিচালিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) মাধ্যমে ছয় রকমের টিকা দেওয়া হয়ে থাকে। এগুলো হচ্ছেÑডিপথেরিয়া, হুপিং কফ, টিটেনাসের ত্রয়ী টিকা (ডিপিটি), ওরাল পোলিও টিকা (ওপিটি), হাম ও বিসিজি। ১৯৮০ সালের মাঝামাঝিতে এই কর্মসূচি শুরু করার পর থেকে পোলিও রোগের ঘটনা দ্রæত হ্রাস পেতে থাকে। ১৯৮৮ সালে পাঁচ বছরের নিচে এক লাখ শিশুর মধ্যে ১৪টি পোলিও রোগের ঘটনা দেখা গেছে। ১৯৯৯ সালে ২৬টি ভয়ংকর রকমের পোলিও রোগের ঘটনা নির্ণয় করা হয় ৬৪টি জেলার মধ্যে ১৭টিতে।