শেষ পাতা

২৪ জনকে হত্যার দায়ে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড

লালদীঘিতে শেখ হাসিনার সভায় গুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: প্রায় তিন দশক আগে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জনসভার আগে গুলি চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন চট্টগ্রামের আদালত।

গতকাল বিকালে চট্টগ্রামের বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেন চার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিতরা হলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি অঞ্চলের তৎকালীন পেট্রোল ইন্সপেক্টর জে সি মণ্ডল, কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, শাহ মো. আবদুল্লাহ ও মমতাজ উদ্দিন। প্রথমজন পলাতক আছেন।

রায়ের পর এ আদালতের পিপি মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদানই সমীচীন বলে আদালত জানিয়েছেন। আমরা এ শাস্তিই প্রার্থনা করেছিলাম। নানা কারণে বিচার বিলম্বিত হলেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে মনে করি।’

রায় ঘোষণার আগে বিচারক বলেন, ‘৫৩ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এ মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সাক্ষী। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি সাক্ষ্য দিতে আসতে পারেননি। চার আসামিই সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রমাণ হয়েছে, কোনো ধরনের সহিংস ঘটনার আগেই কিলিং শুরু হয়।’

পাশাপাশি বিনা উসকানিতে গুলি করে শত শত নিরীহ লোককে আহত করার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি বন্দরনগরীর লালদীঘি মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভার দিন বেলা ১টার দিকে শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রাক আদালত ভবনের দিকে এগোলে নির্বিচার গুলি ছোড়া হয়।

আইনজীবীরা আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে ঘিরে মানববেষ্টনী তৈরি করে তাকে নিরাপদে আইনজীবী সমিতি ভবনে নিয়ে যাওয়ায় তিনি রক্ষা পান।

ওই ঘটনায় মো. হাসান মুরাদ, মহিউদ্দিন শামীম, স্বপন কুমার বিশ্বাস, এথলেবার্ট গোমেজ কিশোর, স্বপন চৌধুরী, অজিত সরকার, রমেশ বৈদ্য, বদরুল আলম, ডি কে চৌধুরী, সাজ্জাদ হোসেন, আবদুল মান্নান, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, বি কে দাশ, পঙ্কজ বৈদ্য, বাহার উদ্দিন, চান্দ মিয়া, সমর দত্ত, হাসেম মিয়া, মো. কাসেম, পলাশ দত্ত, আবদুল কুদ্দুস, গোবিন্দ দাশ ও শাহাদাত হোসেন নিহত হন।

নিহতদের কারও মরদেহ পরিবারকে নিতে দেয়নি স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকার; সবাইকে বলুয়ার দীঘি শ্মশানে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

এরশাদের পতনের পর ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ আইনজীবী মো. শহীদুল হুদা বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা করেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..