দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

২৫০০ অসাধু পেঁয়াজ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: এ পর্যন্ত আড়াই হাজার অসাধু পেঁয়াজ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দিন বলেছেন, সরকারের নানা উদ্যোগে পেঁয়াজের বাজার দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তারা আশা করেন। গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পেঁয়াজ নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিন মিনিটের একটি লিখিত বক্তব্য দিয়ে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়েই চলে যান বাণিজ্য সচিব।

মিয়ানমার সম্প্রতি পেঁয়াজের রফতানি মূল্য চারগুণ বৃদ্ধি করেছে এবং ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে দুই-একদিন ধরে বাজারে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্য সচিব। তিনি বলেন, এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিমানে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে কার্গো বিমানে করে মিসর, তুরস্ক, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে সচিব বলেন, আপনারা জেনে খুশি হবেন যে, এস আলম গ্রুপের পেঁয়াজের প্রথম চালান আগামীকাল কার্গো বিমানে করে বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে বলে আশা করা যায়।

জাফর উদ্দীন বলেন, এলসি খুলে সমুদ্রপথে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আনতে দেড় মাসের মতো সময় লেগে যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজের চালান এখন বাংলাদেশের পথে সাগরে রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে এবং ঢাকাসহ সারা দেশে টিসিবির কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন তদরকি অব্যাহত রেখেছে জানিয়ে সচিব বলেন, এ পর্যন্ত আড়াই হাজার অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বন্যার কারণে বেকায়দায় থাকা ভারত রফতানি বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম এক লাফে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

এরপর সরকারের নানা উদ্যোগে সামান্য কমলেও ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের পর পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে দুদিনের মধ্যে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় উঠে যায়। এরপর সপ্তাহ পার না হতেই ২৫০ টাকায় উঠে যায় পেঁয়াজের কেজি। গত শুক্র-শনিবারও ঢাকার বাজারগুলোতে ২৫০ টাকার আশেপাশে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়। তবে বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করায় এবং চড়া দামের কারণে ঘরে ঘরে ব্যবহার কমায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছেড়ে দামও নামতে শুরু করে। গত রোববার দাম কমে ২৩০ টাকার আশেপাশে চলে আসে। ভারত পেঁয়াজ রফতানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার পর সরকার এলসি মারজিন ও সুদহার কমানোর পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। আমদানিকারকদের অন্যান্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। আমদানি করা পেঁয়াজ নির্বিঘেœ খালাস করার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সবাইকে প্রস্তুত রাখা হয়। সচিব বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, এ সব উদ্যোগ গ্রহণের ফলে দ্রুত পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

অপরদিকে, রাজধানীর বাজারগুলোতে কমছে পেঁয়াজের দাম। দুদিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে দাম কমেছে ৭০-৮০ টাকা। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকায়। নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। আমদানি করা চায়না পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকায়। পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ও বাজার-সংশ্লিষ্টরা জানান, ইতোমধ্যে বাজারে নতুন দেশি পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছে। পাশাপাশি পেঁয়াজের কারসাজিকারীদের ধরতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা। এসব কারণে বাজারে পেঁয়াজের দাম কমছে। দাম কমার এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..