দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

২৫ হাজার সৌদি প্রবাসীকে ফের ভিসা নিতে হবে:পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের মার্চে ভিসা পেয়েও মহামারির কারণে সৌদি আরবে যেতে না পারা প্রায় ২৫ হাজার জনকে নতুন করে ভিসা নিতে হবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন। ঢাকায় ছয় দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গতকাল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, চাকরিতে এসে যারা এখানে আটকে পড়েছেন, তাদের ভিসাটা রিনিউ করতে হচ্ছে। মার্চের সময় যারা নতুন ভিসা নিয়েছিলেন, যেতে পারেননিÑএগুলো ক্যানসেল করে রিইস্যু করবে, ২৫ হাজারের মতো। তাদের মিশনে মাত্র সাতজন লোক কাজ করে। সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে, তবে সবাই যাবে। সব রিইস্যু করতে হবে, একটু সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।

ফ্লাইটের টিকিট সংকট ও ভিসা রিইস্যু নিয়ে প্রবাসীদের বিক্ষোভ এবং এয়ারলাইনসগুলোর কাউন্টারের সামনে তাদের জটলার মধ্যে দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই বৈঠকে বসে সরকার। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, মালয়েশিয়া ও ইরাকের রাষ্ট্রদূত কিংবা তাদের প্রতিনিধি বৈঠকে অংশ নেন। সৌদি প্রবাসীদের দুর্ভোগ লাঘব করতে এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে ২০টি ফ্লাইট চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।

তিনি বলেন, কালকে থেকে ২০টি ফ্লাইট যাবে; সৌদিয়া ১০টি, বিমান বাংলাদেশের ১০টি। তাতে আশা করি, অনেক লোক যেতে পারবে। চলতি সপ্তাহে সৌদিয়া এয়ারলাইনসের চারটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটের সঙ্গে বিমানের দুটি বিশেষ ফ্লাইট চলে সৌদি প্রবাসীদের নেওয়ার জন্য। অন্যদিকে অনুমতি মেলায় ১ অক্টোবর থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করার সিদ্ধান্ত নেয় বিমান বাংলাদেশ।

সৌদি আরবের সঙ্গে ফ্লাইট চালু করার পর এর মধ্যে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার প্রবাসী যেতে পেরেছেন বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ সৌদি আরবে ২০ লাখের বেশি বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কাজ করেন। ২০১৯-২০ অর্থবছরে যে এক হাজার ৮২০ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, তার মধ্যে ৪০১ কোটি ৫১ লাখ ডলারই সৌদি প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন।

কভিড-১৯ মহামারিকালে সৌদি আরব প্রবাসী যারা দেশে এসেছিলেন, দেশটির সরকার বিমান চলাচল আবার শুরু করলেও বাংলাদেশ থেকে যাওয়ায় দেখা দেয় বিপত্তি। সৌদি আরবের অনুমতি না মেলায় সেদেশে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট আবার চালু করতে পারেনি বিমান। ফলে সৌদিতে কর্মরত অনেক বাংলাদেশি বিমানের টিকিট কেটে রেখেও যেতে পারছিলেন না। অন্যদিকে ফ্লাইট কম থাকায় সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসও এত যাত্রীর চাপ নিতে পারছিল না।

এই পরিস্থিতিতে সৌদি প্রবাসী কর্মীরা নামেন বিক্ষোভে। তারা বিমান ও সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইনস অফিসের সামনে দুদিন বিক্ষোভের পর বুধবার প্রবাসী কল্যাণ ভবনের সামনেও বিক্ষোভ করেন।

পরবর্তীকালে আটকেপড়া প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ এবং ২৪ দিনের জন্য ইকামার মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা আসে সরকারের পক্ষ থেকে। এরপর তাদের বিক্ষোভ থামলেও নিয়োগকর্তার ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় ভিসা রিনিউ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করে আসছেন আটকেপড়া অনেক প্রবাসী। তাদের বিষয়ে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে চাকরি দেবে সে যদি না দেয়, তাহলে তো যেতে পারবে না। তারা লোক না নিলে আপনি কী করতে পারেন? এজন্য রাস্তায় নামার কোনো কারণ নেই। তাদের উচিত অন্য চাকরি খোঁজা। নতুন লোকও তো চাকরি পাচ্ছে, তাহলে অসুবিধাটা কোথায়? অনেকে ক্লিয়ারেন্স পাচ্ছে, কেউ কেউ পাচ্ছে না। সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার গেছে কয়েক দিনের মধ্যে। তারা তো ক্লিয়ারেন্স নিয়েই গেছে।

আরেক প্রশ্নে মোমেন বলেন, যারা কফিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে পায়নি, তাদের সংখ্যা অত্যন্ত সামান্য। সর্বমোট আমাদের কাছে তথ্য হলো ৫৩ জন। কফিল ক্লিয়ারেন্সটা দেয়নি। কফিলকে খুঁজে পাচ্ছে না। সুতরাং এই সংখ্যা খুবই কম। প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যাদের কফিল তাদের রাখতে রাজি হয়নি, প্রথমত তারা কফিলের সঙ্গে যোগাযোগ করুক। যাদের কফিল রাজি হবে না, তারা নতুন কফিল চেষ্টা করতে পারে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..