প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

২ হাজার কোটি টাকার ৭ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: উত্তরা লেক উন্নয়ন প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাবসহ সাত প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক হাজার ৮৩১ কোটি, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৫৩ কোটি এবং বৈদেশিক ঋণ সহায়তা থেকে ১২৩ কোটি টাকার সংস্থান হবে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন, আইএমইডির সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সত্যজিৎ কর্মকার প্রমুখ।

ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, উত্তরা লেকে সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে। লেকটির চারপাশে ওয়ার্কওয়ে এবং বর্জ্য মুক্ত করা হবে। বেশিরভাগ টাকাই ব্যয় হবে রাজউকের নিজস্ব তহবিল থেকে। এ প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কালভার্ট বা ড্রেন যাই তৈরি করা হোক সেগুলোর যেন সেøাপ ঠিকমতো থাকে। যাতে পানি চলাচল সঠিক হয়। সেটি না হলে পানি জমে থাকার আশঙ্কা আছে। এছাড়া উত্তরা লেক পরিষ্কার রাখতে এসটিপি (সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) বসাতে হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, তিল গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে কক্সবাজারের নাফ নদী এলাকায় যেসব বাঁধ পুনর্বাসন করা হবে, সেগুলোতে বেশি করে গাছ লাগানোর নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ঝাউগাছ লাগাতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

উত্তরা লেক প্রকল্পের ধীরগতি সম্পর্কে একনেকে আলোচনা হয়েছে কি নাÑএমন প্রশ্নের জবাবে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) সত্যজিৎ কর্মকার বলেন, বাস্তব কারণেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দেরি হয়েছে। তাই এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি একনেক বৈঠকে। পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ বলেন, প্রকল্পটি আগে নেয়া হয়েছিল। পরে জরিপসহ অন্যান্য কাজ করায় বাস্তবায়নে দেরি হয়েছে।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছেÑকক্সবাজার জেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমারে সীমান্ত নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদী বরাবর পোল্ডারগুলোর (৬৭/এ,৬৭, ৬৭বি এবং ৬৮) পুনর্বাসন। এটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২২৭ কোটি টাকা। এছাড়া বিনার গবেষণা কর্মক্রম শক্তিশালীকরণে ব্যয় হবে ১৬৪ কোটি টাকা। প্রক্রিউরমেন্ট অব ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড মেশিনারিজ ফ্রোম বেলারুশ ফর সিলেকটেড মিউনিসিপালিটিজ অ্যান্ড সিটি করপোরেশনস প্রকল্পে ব্যয় হবে ১৫০ কোটি ৬২ লাখ টাকা। ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় সদর দপ্তর স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত ভূমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও পুনর্বাসন কাজে ব্যয় হবে ১ হাজার ২২৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা। ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ,   ব্যয় হবে ১৬২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, উত্তরা লেক উন্নয়ন প্রকল্পটি ২ বছরের জন্য নেয়া হলেও এখন ঠেকছে ৯ বছরে। শুধু সময়ই বাড়েনি, বেড়েছে ব্যয়ও। ৩৭ কোটি ৩২ লাখ টাকার প্রকল্প এখন দাঁড়াল ৯০ কোটি ৭৩ লাখ টাকায়। এক্ষেত্রে বাড়তি গুনতে হবে ৫৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা, যা শতাংশের দিক থেকে হয় ১৪৩ শতাংশ। মূল ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) তৈরির সময় প্রকল্পের কোনো মাস্টারপ্ল্যান বা স্টাডি রিপোর্ট ছিল না। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের পর তৈরি করা মাস্টারপ্ল্যান, জরিপ এবং বাস্তব প্রয়োজনে বিভিন্ন কার্যক্রম যুক্ত ও বাদ দেয়া হয়েছে। মূল প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয় ২০১৪ সালের ২১ মে।

এ সময় বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু সময়মতো কাজ শুরু না হওয়ায় পরে দুই দফায় বাস্তবায়নের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। এখন প্রথম সংশোধনীতে ৩ বছর বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।  এদিকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় হয়েছে মাত্র ২৯ কোটি ৩৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৩২ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে সাড়ে ৩৩ শতাংশ।