প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

‘৩০০ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম’

সারাহ কবিরের কাছে পড়াশোনাটাই আগে। এর সঙ্গে নতুন কিছু করার তাড়না থেকে শখের বসে শুরু করেন ক্র্যাফটিং বাবসা। সম্প্রতি এ পেশার সম্ভাবনা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন তাহসিন আহমেদ

শেয়ার বিজ: লেখাপড়া করেছেন কোথায়?

সারাহ কবির: আমি নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকায় বড় হয়েছি। এসএসসি পাস করেছি মরগান গার্লস হাই স্কুল থেকে। এইচএসসি নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ থেকে। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছি।

শেয়ার বিজ: ক্র্যাফটিং ব্যবসার ধারণা মাথায় আসে কীভাবে?

সারাহ কবির: সব সময়ই সবার থেকে আলাদা ধরনের গয়না পরতে ভালোবাসতাম। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও নিজের মতো ডিজাইন করে গয়না বানাতাম। ছোটবেলা থেকে পুঁতির প্রতি দুর্বল ছিলাম, তাই পুঁতি দিয়েই বানাতে শুরু করলাম গয়না। এক পর্যায়ে ফেসবুকে দ্য ক্র্যাফটার’স সোসাইটি (The Crafter’s Society)  নামের একটা গ্রুপ খুলি। তবে তা কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়। প্রথমে আমার বানানো কিছু ব্রেসলেটের ছবি গ্রুপে দিই। কয়েক দিন পর একজন ইনবক্সে জানালেন, উনি আমার ব্রেসলেটগুলো কিনতে চান। ঘাবড়ে গিয়েছিলাম সেদিন। তারপরও নিলাম অর্ডার। আরও কয়েকটি অর্ডার পাই। পরে একই নামে খুলি ফেসবুক পেইজও। আমি ছোটবেলায় আঁকাআঁকিও করতাম। সময়ের অভাবে ছেড়ে দিয়েছি। কাজ করতে করতেই হঠাৎ মাথায় এলো হ্যান্ড পেইন্টেড গয়নার কথা। যে কথা সেই কাজ; এ কাজও শুরু করি।

শেয়ার বিজ: কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন কী?

সারাহ কবির: তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়নি এখনও। সমর্থনটা বেশিই পেয়েছি। তবে সমস্যা একটাই, তা হচ্ছে কুরিয়ার সার্ভিসের অফিস আমার বাসা থেকে একটু দূরে। ফলে পণ্য ডেলিভারি দিতে সমস্যা হয়।

শেয়ার বিজ: শুরুতে আপনার বিনিয়োগ কত ছিল?

সারাহ কবির: মাত্র ৩০০ টাকা বিনিয়োগে শুরু করেছিলাম। প্রথমে আম্মুকে দেখে এ কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ে, অনুপ্রাণিত হই। সাহস পাই স্বামীর কাছ থেকেও। পরবর্তী সময়ে দুই পরিবার থেকেই সাপোর্ট পাই।

শেয়ার বিজ: পড়ালেখার পাশাপাশি সময় কীভাবে বের করেন?

সারাহ কবির: অবসর সময়টাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। হ্যান্ড পেইন্টেড শাড়ির কাজ শুরু করবো ঈদের পর।

শেয়ার বিজ: পড়ালেখা, সংসার আর ক্র্যাফটিং এক সঙ্গে সামলাচ্ছেন কীভাবে?

সারাহ কবির: প্রথমে একটু সমস্যা হতো। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির সাপোর্ট পাওয়ার পর এখন আর সমস্যা হয় না।

শেয়ার বিজ: ক্র্যাফটিংয়ের জন্য কারও সহায়তা নেন?

সারাহ কবির: না। কাজগুলো আপাতত আমি একাই করছি। কারও সহায়তা নিলে মনের ভেতর খুঁতখুঁত থেকে যায়। মনে হয় এই বুঝি ফিনিশিংটা ভালো হয়নি।

শেয়ার বিজ: কাঁচামাল কোথা থেকে সংগ্রহ করেন?

সারাহ কবির: কিছু নিজে খুঁজে বের করি। আর কিছু অনলাইন থেকে নিই। যেমন আলী এক্সপ্রেস। চলতি ট্রেন্ড ও রঙের ওপর বেশি গুরুত্ব দিই। ভবিষ্যতে এ ব্যবসাকে বড় করা ও বেকার নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার ইচ্ছা আছে। পাঁচ বছর পর নিজেকে একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে চাই।

শেয়ার বিজ: ক্র্যাফটিংকে পেশা হিসেবে নিতে চানÑএমন নারীদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?

সারাহ কবির: পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে এগিয়ে যেতে হবে। সৃজনশীল হওয়া জরুরি। আর পরিশ্রম করতে হবে।

শেয়ার বিজ: এখন পর্যন্ত আপনার বাবসা ফেসবুকভিত্তিক ভবিষ্যতে আউটলেট করার পরিকল্পনা আছে কী?

সারাহ কবির: আমার মনে হয় আউটলেট খুললেই ভালো সাড়া পাওয়া যাবে। খুব শিগগিরই আউটলেট খোলার ইচ্ছে আছে।