প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

৩০০ বিলিয়ন ইউরোর বিনিয়োগ পরিকল্পনা ইইউ’র

শেয়ার বিজ ডেস্ক: এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপে চীনের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ জানাতে বড় ধরনের একটি ‘বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা’ ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ৩০০ বিলিয়ন ইউরোর (৩৪০ বিলিয়ন ডলার) এ পরিকল্পনার নাম দেয়া হয়েছে ‘গ্লোবাল গেটওয়ে স্ট্র্যাটেজি’। বুধবার ব্রাসেলসে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘গ্লোবাল গেটওয়ে’ পরিকল্পনার কথা জানান ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিন। খবর: বিবিসি, গার্ডিয়ান।

চীন তাদের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বে, বিশেষ করে এশিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করেছে। চীনের এ উদ্যোগেরই ‘সত্যিকারের বিকল্প’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে ইইউ’র বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে।

কভিড-১৯ মহামারি খুবই স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে বৈশ্বিক অবকাঠামোর নানা দুর্বল দিকের কারণে মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি। বিশ্বের অবকাঠামোয় যে অসম্পূর্ণতা ও ফাঁক আছে তা পূরণ করাসহ অবকাঠামো-সংশ্লিষ্ট টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে অংশীদার দেশগুলোয় এ প্রকল্প নিয়ে অগ্রসর হবে ইইউ। এ উন্নয়ন হবে জলবায়ু পরিবর্তন রোধ এবং পরিবেশের ক্ষতি না করার পথে থেকেই।

চীন তাদের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে থাকা ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে নতুন নতুন সড়ক, বন্দর, রেলওয়ে ও সেতু উন্নয়নের মাধ্যমে বাণিজ্যকে উন্নত করছে। এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এশিয়া, ইন্দো-প্যাসিফিক, আফ্রিকা, এমনকি ইউরোপের বলকান অঞ্চলেও। তবে চীনের এ উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনা আছে। তারা ঋণ দেয়ার মধ্য দিয়ে দেশগুলোকে ঋণের ফাঁদে ফেলছে বলে অভিযোগ আছে।

চীন ২০১৩ সালে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ পরিকল্পনা হাতে নেয়, যাকে একুশ শতকের ‘সিল্ক রোড’ নামে আখ্যায়িত করা হয়। এ সিল্ক রোডের অধীনে চীন এরই মধ্যে ৭০টির বেশি দেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেছে, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক এবং মোট জিডিপির এক-চতুর্থাংশ। এজন্য চীন সম্ভাব্য ব্যয় ধরেছে প্রায় এক দশমিক তিন ট্রিলিয়ন ডলার, যার মাধ্যমে এশিয়া, আফ্রিকা ও পূর্ব ইউরোপের উন্নয়নশীল দেশগুলোয় রেলওয়েজ এবং বন্দরের মতো অবকাঠামো তৈরি করবে। যদিও অনেকে এজন্য চীনকে ঋণ দিয়ে ফাঁদে ফেলার কথা বলছে।

ইইউ’র পরিকল্পনা বিষয়ে জার্মান মার্শাল ফান্ডের ঊর্ধ্বতন ফেলো অ্যান্ড্র– স্মল বলেন, গ্লোবাল গেটওয়ে উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই প্রথম একসঙ্গে একটি প্যাকেজ নিয়ে অগ্রসর হওয়া এবং আর্থিক কৌশল নির্ধারণের চেষ্টা নিয়েছে, যাতে চীনের কাছ থেকে ঋণ নেয়ার চিন্তাভাবনা করা দেশগুলো একটি বিকল্প পথ পেতে পারে।

‘গ্লোবাল গেটওয়ে’ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিন, স্কিম যাতে আস্থাশীল হয়ে উঠতে পারে তিনি সেই আশা প্রকাশ করেন। টেকসই প্রকল্প হাতে নেয়ার জন্য দেশগুলোর বিশ্বাসযোগ্য পার্টনার চাই বলেও জানান তিনি।

গ্লোবাল গেটওয়ের জন্য যে কোটি কোটি ইউরো প্রয়োজন, তা সদস্য রাষ্ট্র, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাত থেকে কীভাবে সংগ্রহ করা যায়, তা খতিয়ে দেখছে ইইউ। কমিশনের প্রধান বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে এ ৩০০ বিলিয়ন ইউরোর তহবিল জোগাড় করা হবে। যেখানে ইইউভুক্ত ২৭টি দেশের সরকারি-বেসরকারি এবং ইউরোপিয়ান বিনিয়োগ ব্যাংক এ তহবিলে অর্থ  দেবে। প্রতিবছর অন্তত ৬০ বিলিয়ন ইউরো এ প্রকল্পে দেয়া হবে।

গত মাসে এক ব্রিফিংয়ে ইইউতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং মিং বলেছিলেন, ইইউ’র গ্লোবাল গেটওয়ে স্ট্র্যাটেজি উš§ুক্ত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সহায়ক হলে বেইজিং একে স্বাগত জানাবে। তবে এ অবকাঠামো প্রকল্পকে ভূ-রাজনৈতিক হাতিয়ার করে তোলার কোনো রকম চেষ্টা চললে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ হবে না বলেও চীন হুশিয়ারও করে দিয়েছে।

এদিকে চীনকে টেক্কা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও এশিয়া ও এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে বিনিয়োগের কথা বলেন। এরই মধ্যে বাইডেন প্রশাসন উন্নয়নশীল এসব দেশের জন্য বরাদ্দ বাড়িয়েছেন বলেও জানানো হয়। গত মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলিঙ্কেন আফ্রিকা সফরে গিয়ে ঋণের কোনো শর্ত ছাড়াই ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ বিনিয়োগের ঘোষণা মূলত চীনকেই চ্যালেঞ্জ জানাবে।

টিকা বাধ্যতামূলক করার পক্ষে ইইউ: এদিকে কভিডের নতুন ধরন ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ায় টিকা বাধ্যতামূলক করতে ইইউ’র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কমিশনের প্রধান। তিনি জানান, দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত নতুন ধরন ‘অতিমাত্রায় সংক্রামক’ এবং এ ধরনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।