প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

৩০ বছরে কিনতে হবে ৪৭৪টি ইঞ্জিন ও পাঁচ হাজার ১৪৩ কোচ

রেলের উন্নয়নে ৩০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২০১৬-২০৪৫ মেয়াদি এ মহাপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে শেয়ার বিজের ধারাবাহিক আয়োজন। আজ ছাপা হচ্ছে তৃতীয় পর্ব


ইসমাইল আলী: ২০৪৫ সালের মধ্যে দেশের সব রেলপথ ব্রডগেজে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি পুরো রেল নেটওয়ার্কই হবে ডাবল লাইন। এতে ট্রেনে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন অনেক বেড়ে যাবে। আর এ চাহিদা মেটাতে ৩০ বছরে ৪৭৪টি ইঞ্জিন ও পাঁচ হাজার ১৪৩টি কোচ দরকার হবে। এছাড়া পণ্য পরিবহনে ছয় হাজার ৪৩৯টি ওয়াগন কিনতে হবে। ৩০ বছর মেয়াদি (২০১৬-২০৪৫) খসড়া মাস্টারপ্ল্যানে এ সুপারিশ করা হয়েছে।

সম্প্রতি রেলওয়ের মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। গত সপ্তাহে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে তা আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। এশীয় উন্নয়নের ব্যাংকের (এডিবি) কারিগরি সহায়তায় মাস্টারপ্ল্যানটি প্রণয়ন করছে সিপিসিএস ট্রান্সকম লিমিটেড ও ই.জেন কনসালটেন্টস লিমিটেড।

তথ্যমতে, রেলের বিদ্যমান ইঞ্জিন-কোচের বড় অংশের আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে। বাকিগুলোর আয়ুষ্কালও দ্রুত ফুরিয়ে যাবে। তাই বিদ্যমান চাহিদা মেটাতে মাস্টারপ্ল্যানের প্রথম পর্বের (২০১৬-২০২০) আওতায় ব্রডগেজ ছাড়াও কিছু মিটারগেজ ইঞ্জিন-কোচ কিনতে হবে। তবে ২০২০ সালের পর আর মিটারগেজ ইঞ্জিন-কোচ কেনার প্রয়োজন নেই। এর পর থেকে শুধু ব্রডগেজ ইঞ্জিন-কোচ কিনলেই চলবে।

মাস্টারপ্ল্যানে বলা হয়েছে, প্রথম পর্বে দ্রুত ৩১টি ব্রডগেজ ও ৩৭টি মিটারগেজ ইঞ্জিন নতুনভাবে কিনতে হবে। এছাড়া আয়ুষ্কাল পেরিয়ে যাওয়ায় ৫৫টি ব্রডগেজ ও ৭৪টি মিটারগেজ ইঞ্জিন প্রতিস্থাপন করতে হবে। সব মিলিয়ে প্রথম পাঁচ বছরে ১৯৭টি ইঞ্জিন কিনতে হবে। এ সময়ে নতুন ব্রডগেজ কোচ কিনতে হবে ২১৬টি ও মিটারগেজ কোচ ৬৫টি। এছাড়া ২৪১টি ব্রডগেজ কোচ ও ৬৯৬টি মিটারগেজ কোচ প্রতিস্থাপন করতে হবে। অর্থাৎ ২০১৬-২০২০ মেয়াদে এক হাজার ২১৮টি কোচ কিনতে হবে।

এর বাইরে পণ্য পরিবহনে গতি আনতে পাঁচ বছরে এক হাজারটি ব্রডগেজ ওয়াগন কিনতে হবে। আর ১৪০টি ব্রডগেজ ও ৫৮০টি মিটারগেজ ওয়াগন প্রতিস্থাপন করতে হবে। সব মিলিয়ে ২০১৬-২০২০ মেয়াদে ওয়াগন কিনতে হবে এক হাজার ৭২০টি।

মাস্টারপ্ল্যানের দ্বিতীয় পর্বে (২০২১-২০২৫) ইঞ্জিন কেনার দরকার নেই। তবে ২৭৪টি কোচ (১০৩টি ব্রডগেজ ও ১৭১টি মিটারগেজ) কিনতে হবে। এ সময়ে ৪৮২টি ব্রডগেজ ওয়াগন প্রতিস্থাপন করতে হবে। মাস্টারপ্ল্যানের তৃতীয় পর্বে (২০২৬-২০৩০) ৪৮টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন ও ৮৩১টি কোচ কিনতে হবে। আর ৫৯১টি ওয়াগন কেনার পাশাপাশি ৫৪০টি প্রতিস্থাপন করতে হবে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই মিটারগেজ ওয়াগন।

মাস্টারপ্ল্যানের চতুর্থ পর্বে (২০৩১-২০৩৫) ৭০টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন ও ৭৭৫টি কোচ কিনতে হবে, যার সবগুলোই ব্রডগেজ। এ সময়ে ৭৩১টি ব্রডগেজ ওয়াগনও কিনতে হবে। আর মাস্টারপ্ল্যানের পঞ্চম পর্বে (২০৩৬-২০৪০) ৮২টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন ও ৮৫৮টি কোচ কিনতে হবে। আর এক হাজার ১৬৫টি ওয়াগন কিনতে হবে এ সময়ে। এছাড়া শেষ পর্বে (২০৪১-২০৪৫) ৭৭টি ইঞ্জিন, এক হাজার ১৬৬ কোচ ও এক হাজার ২৮২টি ওয়াগন কিনতে হবে।

ইঞ্জিন-কোচ কিনতে প্রায় ৮২ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এর মধ্যে প্রথম পর্বে ব্যয় হবে ১৬ হাজার ৭২ কোটি টাকা, দ্বিতীয় পর্বে পাঁচ হাজার ৭০১ কোটি, তৃতীয় পর্বে ১২ হাজার ৩৩৮ কোটি, চতুর্থ পর্বে ১২ হাজার ৬৫২ কোটি, পঞ্চম পর্বে ১০ হাজার ৪৮০ কোটি ও ষষ্ঠ পর্বে ১৩ হাজার ৯৬ কোটি টাকা।

এদিকে ইঞ্জিন-কোচ আধুনিকায়নের পাশাপাশি এগুলোর যথাযথ ব্যবহারে সিগন্যালিং ব্যবস্থার উন্নয়নের সুপারিশ করা হয়েছে মাস্টারপ্ল্যানে। এতে বলা হয়, নন-ইন্টারলকিং ব্যবস্থায় ট্রেনের গতি মাত্র ১৬ কিলোমিটার আর ইন্টারলকিং ব্যবস্থায় সর্বনি¤œ গতি ৪৮ কিলোমিটার। তবে স্ট্যান্ডার্ড ২-এ ট্রেনের গতি ৭২ কিলোমিটার ও স্ট্যান্ডার্ড ৩-এ গতিতে কোনো বাধা নেই। ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানো যাবে এ স্ট্যান্ডার্ডে। রেলের সিগন্যালিং ব্যবস্থা আধুনিকায়নে ১৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে ছয় হাজার ৪৫২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।

 

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..