দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, ‘বিশ্বব্যাপী চলমান মহামারি করোনার কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক দফা বাড়িয়ে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটির ঘোষণা দিয়ে রেখেছিল সরকার। তবে ছুটি যে আরও বাড়বে, তা বুধবারই এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

স্থগিত থাকা এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা কবে থেকে নেওয়া হবে, সেই তারিখ আগামী ‘সোম-মঙ্গলবারের মধ্যে’ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

গত ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে তা স্থগিত রয়েছে। বছর প্রায় শেষ হয়ে আসায় এ পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

এদিকে করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে স্কুলে আসায় শিক্ষকদেরও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি থেকে যায়Ñএ বিষয়ে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘আমরা এ ধরনের কোনো নির্দেশনা জারি করিনি। আমরা নির্দেশনা জারি করেছি স্কুল রি-ওপেনিং প্ল্যান। যখন স্কুল পুনরায় খোলা হবে তখন কোন কোন বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে স্কুল খুলবে সেটার একটা গাইডলাইন তৈরি করেছি। ডব্লিউএইচও, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ, ইউনেস্কো যেসব গাইডলাইন তৈরি করেছে সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে এটা তৈরি করেছি। সেটা সব স্কুলে দিয়েছি। আমাদের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেই রি-ওপেনিং প্ল্যান বিবেচনা করে একটা স্কুল রি-ওপেনিং প্ল্যান তৈরি করবে। সে জন্য বলেছি, স্কুল খোলার ১৫ দিন আগে কাজগুলো করতে হবে। এর বাইরে স্কুলে আসতে হবে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমরা দিইনি।’

সচিব বলেন, ‘আমরা কিন্তু সরকারি কর্মচারী। আমাদের সব অফিস খুলে দিয়েছে। স্কুলেও কিছু কাজ থাকে, একাডেমিক কাজ থাকে। শিক্ষকরা আসতেই পারেন, অফিসাররা আসতেই পারেন।’

গণশিক্ষা সচিব বলেন, কভিড পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ষষ্ঠবারের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হলো।

প্রধানমন্ত্রীও আশঙ্কা করেছেন নভেম্বরে একটা সেকেন্ড ওয়েভ আসতে পারে, তাহলে শুধু অক্টোবর কেন বন্ধ করা হলো প্রশ্নে সচিব বলেন, ‘নভেম্বরের পরিস্থিতি এখন আমাদের সামনে আসেনি। সেপ্টেম্বরের আক্রান্তের হার বিবেচনায় নিয়ে মনে করছি যে, এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা সমীচীন হবে না। সেই কারণে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

শিক্ষাবর্ষ বাড়ছে কি নাÑপ্রশ্নে সচিব বলেন, এখনও কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, ‘১ জানুয়ারি যে বই উৎসব করি সেই বই ছাপানোর ব্যাপারে আমাদের পুরোদমে কাজ চলছে। আমাদের কভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা পরবর্তী বছরে বই বিতরণ করব, নতুন সেশন শুরু হবে। সে কারণে আমরা মনে করছি যে, সেশন বাড়ানোর পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত নেই।’

মূল্যায়ন ও বার্ষিক পরীক্ষার সম্ভাবনা কমে আসছে কি না প্রশ্নে সচিব বলেন, ‘আমরা ১৬ মার্চ পর্যন্ত ৩০-৩৫ শতাংশ পাঠ পরিকল্পনা শেষ করতে পেরেছি। রেডিও, টেলিভিশন, সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার করে পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছি। আমাদের মেইন টার্গেট হলো, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মিনিমাম একটা লার্নিং কমপিটিন্সি। এটা যাতে প্রতিটি শিশু অর্জন করতে পারে, সে ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। পরীক্ষা বা মূল্যায়ন নয়।’

তিনি বলেন, ‘স্কুলের শিক্ষকই বলতে পারবেন বাচ্চারা সঠিকভাবে লার্নিং কমপিটিন্সি অর্জন করতে পেরেছে কি না, সেট নিয়ে আমরা কাজ করছি। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা একটা টুলস তৈরি করেন পরবর্তী ক্লাসে তুলে দেওয়ার জন্য।’

অটো পাস দেওয়া হবে কি না প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের ধীরে ধীরে স্পেস কমে যাচ্ছে। সেটা হতেই পারে, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। আমরা নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করি।’ গণশিক্ষা সচিব বলেন, ‘১ নভেম্বর থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমাদের একটা পাঠ পরিকল্পনা আছে। যদি স্কুল খুলতে পারি তাহলে সে অনুযায়ী চলবে। যদি স্কুল না খুলে, শেষ অপশন যদি ব্যবহার করতে না পারি তাহলে বুঝতেই পারছেন কী হবে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..