প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যাবে

## ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংক হলিডে, ওইদিন ব্যাংক লেনদেন বন্ধ থাকবে

## ৩০ ডিসেম্বর করের ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার, চালান কেটে রাখার অনুরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জরিমানা ছাড়াই ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যক্তিশ্রেণির আয়কর রিটার্ন দেওয়া যাবে। তবে ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংক হলিডে। এদিন ব্যাংক লেনদেন বন্ধ থাকবে। সেজন্য করদাতাদের ৩০ নভেম্বর বুধবার এর মধ্যে করের ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার ও চালান কেটে রাখতে অনুরোধ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ এ মু’মেন সই করা এ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী ৩০ নভেম্বর ব্যক্তিশ্রেণির আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা শেষ হয়। করোনা মহামারির কারণে ওইদিন একমাস বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করে এনবিআর।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘২০২০-২১ করবর্ষের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষদিন ৩১ ডিসেম্বর। ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংক হলিডে। সেদিন সকল ব্যাংকের লেনদেন সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ অবস্থায় আয়কর প্রদান সংক্রান্ত ব্যাংকিং কার্যক্রম ৩০ ডিসেম্বর এর মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য করদাতাদের অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।’

অপরদিকে, আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বর ব্যক্তি শ্রেণির আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা শেষ হয়। আয়কর অধ্যাদেশের নিয়ম অনুযায়ী, কেউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দিতে না পারলে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে দুই থেকে চার মাস পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে নিতে পারেন। সেজন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। তখন কর কর্মকর্তা আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী জরিমানা, করের ওপর ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত সরল সুদ কিংবা করের টাকার উপর মাসিক ২ শতাংশ হারে বিলম্ব সুদ আরোপ করতে পারেন।

করোনা মহামারির মধ্যে করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সুবিধার্থে রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা এক মাস (৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত) বাড়ানো হয়। ওইদিন সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম জানান, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে এনবিআরের ক্ষমতা প্রয়োগ করে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ব্যক্তি পর্যায়ের করদাতাদের সুবিধার্থে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার সময় এক মাস বৃদ্ধি করা হল।’

তিনি জানান, ‘দেশে ৫০ লাখ ৭২ হাজার নাগরিকের কর শনাক্তকারী নম্বর (ই-টিআইএন) রয়েছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত তাদের মধ্যে ১৫ লাখ করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন। এখনও কর অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাশাপাশি কভিড পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখে আমরা এক মাস বৃদ্ধি করলাম।’

অন্যদিকে ৩০ নভেম্বর বিকালে এনবিআর থেকে রিটার্ন দাখিলের সময় বৃদ্ধির আদেশ জারি করা হয়। দ্বিতীয় সচিব (কর আইন-১) মো. মহিদুল ইসলাম চৌধুরীর সই করা আদেশে বলা হয়, ‘আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ধারা ১৮৪জি’তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট অসুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার ২০২০-২১ করবছরে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৩০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করল।’

এনবিআর সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা পড়েছে ১৭ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮৭টি। গতবছর ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা পড়েছে ১৬ লাখ ৪৪ হাজার ১৯২টি। রিটার্ন বেড়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৩৯৫টি। চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আয়কর আদায় হয়েছে তিন হাজার ২৮ কোটি টাকা, গতবছর ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আয়কর আদায় হয়েছে তিন হাজার ২৪১ কোটি টাকা।

অপরদিকে, কর সচেতনতা তৈরি ও করদাতাদের উৎসাহ প্রদানে প্রতিবছর কেন্দ্রীয়ভাবে আয়কর মেলার আয়োজন করে এনবিআর। এছাড়া বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও মেলার আয়োজন করা হয়। চলতি বছর করোনা মহামারির কারণে মেলার আয়োজন করা হয়নি। তবে কর অঞ্চলগুলোতে মেলার পরিবেশে মিনি করমেলার আয়োজন করা হয়। যেখানে সব ধরনের সুবিধা রাখা হয়। সময় একমাস বৃদ্ধির পরও সুবিধা অব্যাহত রাখা হয়।

###