প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

৩৫ হাজার ইভিএম ব্যবস্থাপনায় থাকবে পাঁচ হাজার ২৮০ সেনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে সব কেন্দ্র মিলিয়ে ৩৫ হাজার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। আর এসব ইভিএম ব্যবস্থাপনায় সশস্ত্র বাহিনীর পাঁচ হাজার ২৮০ সদস্য মোতায়েন থাকবেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। গতকাল নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘দুই সিটির ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় ইভিএম ছাড়াও ৫০ শতাংশ বেশি ইভিএম প্রস্তুত থাকবে। ইভিএমে ভোটের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকবে, স্বচ্ছতায় কোনো সমস্যা নেই। আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। যাতে করে প্রার্থীরা সন্তুষ্ট থাকতে পারেন, সে ব্যাপারে আমাদের পদক্ষেপ থাকবে।’

রাজনৈতিক দলের মধ্যে ইভিএম নিয়ে বিতর্ক থাকলে পরীক্ষামূলক ভোটে সার্বিক ব্যবস্থা দেখতে দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলেও জানান তিনি। শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ইভিএমে প্রতি কেন্দ্রের টেকনিক্যাল সাপোর্টের জন্য দুজন করে সেনা সদস্য থাকবেন। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ভোট বন্ধ করে দেওয়া হবে। ইভিএমে ভোটে অস্বচ্ছতার কিছু নেই।

এদিকে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেছেন, আসন্ন ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনে উত্তর ও দক্ষিণ মিলে দুই হাজার ৬০০ কেন্দ্র রয়েছে, এর মধ্যে ১৪ হাজার ৬০০ বা তার বেশি ভোটকক্ষ থাকবে। এজন্য প্রায় ৩৫ হাজার ইভিএম ব্যবহার করা হবে। বাস্তবতার নিরিখে এটি নির্ধারণ করা হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেন্দ্রে দায়িত্বরত সেনাবাহিনী শুধু ইভিএমের কারিগরি দিক দেখবে। আইনশৃঙ্খলায় কোনো কাজ করবে না তারা। আইনশৃঙ্খলার জন্য আলাদা বাহিনী থাকবে।

সাইদুল ইসলাম বলেন, এই ইভিএমকে বাস্তবায়নের জন্য আমাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পোলিং অফিসারদের চিহ্নিত করেছি। তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।

ইসি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ছাড়াও ভোটারদের শিক্ষিত করার জন্য আমরা নানা ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ, ভোটাররা যাতে সহজে ভোট দিতে পারেনÑসেজন্য বুকলেট ও লিফলেট প্রস্তুত করা, বিভিন্ন টেলিভিশনে দেখানোর জন্য টিভিসি প্রস্তুত করাসহ নানা ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, ভোট গ্রহণের সময় কোনো সমস্যা হলে কীভাবে তার সমাধান করা হবেÑসে বিষয়েও আমরা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এছাড়া প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা সফটওয়্যার আপডেট করছি।

ইভিএমে ভোট অত্যন্ত সহজ দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সেভাবেই সাজাব যাতে যে কোনো নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যে, সহজভাবে ভোট দিতে পারেন। সে জন্য যা যা করা দরকার, তা করব। আনসার-ভিডিপি, পুলিশ মোতায়েন থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি কাজ করব। এর পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি থাকবে। কিন্তু সংখ্যা কত হবে, কোন কোন কেন্দ্রে কতজন থাকবে, কোন কেন্দ্রগুলো ঝুঁকিপূর্ণ সার্বিক বিষয় চিন্তা করে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করব।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি কেন্দ্রের বুথ অ্যানালাইসিস করে আমরা দেখব কোন কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ এবং কোথায় কতজন নিয়োগ করা যায়। সে অনুযায়ী কাজ করা হবে।’

প্রসঙ্গত, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২ জানুয়ারি ও প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ জানুয়ারি। দুই সিটি নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।