কোম্পানি সংবাদ

৪০০ কোটি টাকার পারপিচুয়াল বন্ড ছাড়বে ইউসিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংক খাতের কোম্পানি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ৪০০ কোটি টাকার পারপিচুয়াল বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন আধিপত্য সম্পর্কিত বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকের ব্যাসেল-৩ কমপ্লায়েন্সের শর্তপূরণ সাপেক্ষে অ্যাডিশনাল টায়ার-১ (এটি-১) মূলধন হিসেবে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে এ অর্থ সংগ্রহ করা হবে। সংগ্রহীত অর্থ ব্যাংক খাতের এ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসার প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং অন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অনুমোদনক্রমে অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

এছাড়া ব্যাংক খাতের এ কোম্পানিটি তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০১৯) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তথ্যমতে, তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৭২ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ৬৬ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ছয় পয়সা। আর প্রথম তিন প্রান্তিক বা ৯ মাস (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর, ২০১৯) শেষে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৭৬ পয়সা। যা আগের বছর একই সময় ছিল এক টাকা ৬২ পয়সা। এছাড়া ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ৩৪ পয়সা, যা ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরে ছিল ২৩ টাকা ৮৮ পয়সা। আর তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর, ২০১৯) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ দাঁড়িয়েছে ৫৬ পয়সা (লোকসান), যা আগের বছর একই সময় পাঁচ টাকা ৪৯ পয়সা লোকসান ছিল।

২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড। ওই সময় কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) করে দুই টাকা ৫২ পয়সা এবং ৩১ ডিসেম্বর শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ২৭ টাকা তিন পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে দুই টাকা ৫৮ পয়সা ও ২৫ টাকা ৪৯ পয়সা। এর আগে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ। ২০১৮ সালে কোম্পানিটি মোট মুনাফা করে ২৬৫ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যা তার আগের বছর ছিল ২৭২ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এদিকে, গতকাল ডিএসইতে কোম্পানির শেয়ারদর দুই দশমিক ১৩ শতাংশ বা ৩০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ১৪ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১৪ টাকা ৩০ পয়সা। ওইদিন কোম্পানিটির পাঁচ লাখ ১২ হাজার ৮৩১টি শেয়ার মোট ২০২ বার হাতবদল হয়। যা বাজারদর ৭৩ লাখ টাকা। এইদিন শেয়ারদর সর্বনি¤œ ১৪ টাকা ১০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১৪ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ারদর ১৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ২০ টাকা ৫০ পয়সায় ওঠানামা করে।

কোম্পানিটি ১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। কোম্পানির এক হাজার ৫০০ কোটি অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ১৫৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ এক হাজার ৫৪৪ কোটি ৪২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির ১১৫ কোটি ৯৫ লাখ ৪৩ হাজার ৭১৯টি শেয়ার রয়েছে। মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, সরকারি শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর ১৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীর এক  দশমিক ৪৭ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৪২ দশমিক ৪২ শতাংশ শেয়ার। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত পাঁচ দশমিক ৬০ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ছয় দশমিক ১৩।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..