সুস্বাস্থ্য

৪০ বছরে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল। যুগে যুগে মা ও শিশু সেবায় নিবেদিত এ প্রতিষ্ঠান। জনসাধারণের অর্থে গড়া স্বাস্থ্যসেবা খাতের এ প্রতিষ্ঠানটি বন্দরনগরী চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত। সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠান এটি।

১৯৭৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক শিশুবর্ষ উপলক্ষে চট্টগ্রামের কয়েকজন মহৎ প্রাণের উদ্যোগে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন প্রয়াত ডা. এএফএম ইউসুফ। কাণ্ডারি ছিলেন প্রফেসর ডা. এএসএম ফজলুল করিম, যিনি হাসপাতালটির বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট। হাসপাতাল বাস্তবায়নে অক্লান্ত মেধা ও শ্রম দিয়েছিলেন সীতাকুণ্ডের প্রয়াত ইঞ্জিনিয়ার এল কে সিদ্দিকী। তাদের সঙ্গে ছিলেন এক ঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী।

প্রতিষ্ঠালগ্নে এ হাসপাতালের নামকরণ করা হয়েছিল ‘চট্টগ্রাম শিশু হাসপাতাল’। ১৯৭৯ সালে মাত্র ৪০০ বর্গফুটজুড়ে বহির্বিভাগ সেবা দিয়ে এ হাসপাতাল তার যাত্রা করে। ১৯৮৫ সালে বহির্বিভাগের পাশাপাশি এখানে ১০ শয্যার আন্তঃবিভাগ চালু করা হয়। ১৯৮৭ সালে ১০ শয্যা থেকে ৩০ শয্যায় উন্নীতকরণ করা হয়। ১৯৯৪ সালে এ হাসপাতালের আন্তঃবিভাগ ১৫০ শয্যায় উন্নীত করে শিশু স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি শিশুবান্ধব পরিচিতির পরপর মেটারনিটি স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম শুরু করে। তখন এর নামকরণ করা হয় ‘চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল’। সম্প্রতি ৪০ বছর পূর্ণ হয়েছে হাসপাতালটির।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের রয়েছেন প্রায় ৯ হাজার আজীবন সদস্য-সদস্যা। তাদের মধ্য থেকে নানা ক্যাটেগরিতে ২৪ জন নির্বাচিত প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত কার্যনির্বাহী কমিটিকে তিন বছরের জন্য হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

হাসপাতালটিতে রয়েছে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকসহ প্রায় দেড় হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী, ডিসিএইচ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ছাত্রছাত্রী, বিএমডিসি’র স্বীকৃত পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ছাত্রছাত্রী, ট্রেইনি, মেডিকেল ছাত্রছাত্রী ও নার্সিং ছাত্রছাত্রী। ইসি মেম্বারসহ নার্সিং ও মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বডিতে রয়েছে সরকারি প্রতিনিধি। এ দুই গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। আন্তঃবিভাগে গড়ে ৫০০ ও বহির্বিভাগে এক হাজার রোগী এবং তাদের অভিভাবকসহ প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ সেবা নেয় এ হাসপাতাল থেকে।

হাসপাতাল ট্রাস্টের অধীনে ছয়টি প্রকল্প ‘৬৫০ শয্যাবিশিষ্ট চট্টগ্রাম মা, শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল’, ‘চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ’, ‘ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ’, ‘অটিজম ও শিশু বিকাশ কেন্দ্র’, ‘মা ও শিশু নার্সিং ইনস্টিটিউট’ ও ‘শামসুন নাহার খান নার্সিং কলেজ’সহ সপ্তম প্রকল্প হিসেবে ‘সিএমওএসএইচ ক্যানসার হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

এরই মধ্যে এ হাসপাতাল সফলতার সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠার ৩৯ বছর পার করেছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সার্বক্ষণিক খোলা থাকে। বহির্বিভাগ প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এছাড়া দক্ষ জনবল, অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও অত্যাধুনিক মেডিকেল যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ এ হাসপাতাল বর্তমানে ৬৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতাল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ হাসপাতালকে ৮৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের পাশাপাশি নতুন বিশেষায়িত সেবা চালুর জন্য ১৩ তলাবিশিষ্ট নতুন ভবনের কাজ চলছে।

চট্টগ্রাম মা শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের অন্যতম প্রকল্প চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ। ২০০৬ সালে ৫০ ছাত্রছাত্রী ভর্তির মাধ্যমে এ মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু। মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ ছিলেন বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডা. এমএ তাহের খান। এখান থেকে বর্তমানে ১৫তম ব্যাচে ১১০ ছাত্রছাত্রী ভর্তির কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে আটটি ব্যাচ এমবিবিএস কোর্স সম্পন্ন করেছে। প্রত্যেক শিক্ষাবর্ষ থেকে পাস করা গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে নির্ধারিত ক্রাইটেরিয়া পূরণসাপেক্ষে পারফরম্যান্স অনুযায়ী একজন ‘বেস্ট ডাক্তার’ নির্বাচিত করে ‘এসঅ্যান্ডএফ করিম ট্রাস্ট’-এর পক্ষ থেকে একটি গোল্ড মেডেল ও সম্মাননা দেওয়া হয়।

নার্সিং সেবা কার্যক্রম

নার্সিং সেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নার্সিং ইনস্টিটিউট, নার্সিং কলেজের পাশাপাশি মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের নার্সিং সেবা ভূমিকা রেখে চলেছে। এখানে শিশুদের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা দানে নার্সদের ট্রেনিং দেওয়া হয়। ফলে তারা সঠিক সেবা দিতে পারেন। হাসপাতালে নার্সিং সেবা কার্যক্রমকে সুচারুভাবে এগিয়ে নিতে রয়েছে নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট তথা মেট্রন, সহকারী মেট্রন, সিনিয়র স্টাফ নার্স ও জুনিয়র নার্স। তাদের সহযোগিতার জন্য রয়েছেন এটেনডেন্টরা।

চট্টগ্রাম মা শিশু হাসপাতাল ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ

এ হাসপাতালের অন্যতম একটি প্রকল্প হলো ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ। ১৯৯৭ সালে এ ইনস্টিটিউটের অধীনে থেকে ডিপ্লোমা ইন চাইল্ড হেলথ (ডিসিএইচ) কোর্স চালু হয়। এ পর্যন্ত ইনস্টিটিউট থেকে ৭৫ ডাক্তার ডিসিএইচ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। এর অধীনে শিশুস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত নানা গবেষণামূলক কার্যক্রম চালু রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে আইসিডিডিআর.বি, ঢাকা শিশু হাসপাতাল, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘হু’ (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) ও আমেরিকার জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গবেষণা কার্যক্রম চালু রয়েছে। ‘ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ’-এর অধীনে এমডি (পেডিয়াট্রিক) কোর্স চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

অটিজম অ্যান্ড চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার

হাসপাতালের অন্যতম একটি বিশেষায়িত সেবাকেন্দ্র হলো শিশু বিকাশ কেন্দ্র। ১৯৯৮ সালে এ হাসপাতালে শিশু বিকাশ কেন্দ্র চালু করা হয়, যা এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অনুমোদনে ‘ইনস্টিটিউট অব অটিজম অ্যান্ড চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট’ হিসেবে উন্নীত হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য একই ছাতার নিচে অত্যাধুনিক মেশিন ও দক্ষ জনবল এখানে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে। অর্থাৎ ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’-এর ব্যবস্থা রয়েছে। সময়মতো নবজাতকদের স্ক্রিনিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যাতে কোনো প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম না হয়। এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চিকিৎসাসেবায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য এখানে সার্টিফিকেট কোর্সসহ স্বল্পমেয়াদি নানা প্রশিক্ষণ রয়েছে। সম্প্রতি এ প্রতিষ্ঠানের অধীনে ‘ডিপ্লোমা ইন ডেভেলপমেন্টাল থেরাপি’ কোর্স চালুর অনুমোদন দিয়েছে চবি। বাংলাদেশে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কোর্স এটাই প্রথম।

অন্যান্য কার্যক্রম

হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্য থেকে সব ক্যাটেগরিতে ‘বেস্ট সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘প্রেসিডেন্ট স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান বেতন কাঠামোর উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। তাদের জন্য রয়েছে ‘কল্যাণ ফান্ড’। এ ফান্ড থেকে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক সাহায্য ও তাদের সন্তানদের শিক্ষাসহ অফেরতযোগ্য দান-অনুদান দেওয়া হয়। এছাড়া অসহায় ও গরিব রোগীদের জাকাত ফান্ড, দরিদ্র্র কল্যাণ তহবিল ও অন্যান্য ফান্ড থেকে নানা সহযোগিতা করা হয়। এছাড়া ক্যানসার রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় চিকিৎসা নিতে অক্ষম গরিব ও অসহায় রোগীর জন্য এ ফান্ড থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হয়। অসহায় ও দুস্থ রোগীদের ওষুধ, খাবার ও শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য খিচুড়ি এবং দুগ্ধজাত খাবার বিনা খরচে দেওয়া হয়। কোনো রোগীকে টাকার অভাবে চিকিৎসার জন্য এখান থেকে ফেরত দেওয়া হবে নাÑএটি হাসপাতালটির অন্যতম লক্ষ্য।

ইমার্জেন্সি সার্ভিস

হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইমার্জেন্সি সার্ভিস। সব বিভাগে এ ইমার্জেন্সি সার্ভিস সার্বক্ষণিক চালু রয়েছে। যেমন, পানি ও বিদ্যুৎসহ টেলিফোন, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস রোগীদের জরুরি সেবার জন্য দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চলমান রাখা হয়েছে। এছাড়া মুমূর্ষু রোগীদের জন্য আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে।

সরকারি সাহায্য

সর্বপ্রথম দ্বিতলবিশিষ্ট স্থাপনাসহ চার দশমিক ২৬৩৭ একর জায়গা সরকার থেকে পাওয়া যায়। ক্যানসার হাসপাতালের জন্যও সরকার থেকে আলাদা জমি পেয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরকার থেকে অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে একটি অ্যাম্বুলেন্স। প্রতি বছর প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের অধীনে ভবিষ্যতে এখানে একটি বেসরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, নতুন বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা চালুসহ একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল ভিলেজ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে যুগোপযোগী মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ছয় তলাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ লেডিস হোস্টেল নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া ১৩ তলাবিশিষ্ট নতুন হাসপাতাল ভবনে সব বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা থাকবে। হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যদি কোনো দাতা সংস্থা কিংবা প্রতিষ্ঠান নতুন হাসপাতাল ভবনের কাজের জন্য পাঁচ কোটি টাকা অনুদান দেয়, তবে ওই দাতা কিংবা প্রতিষ্ঠানের নামে একটি ফ্লোরের নামকরণ করা হবে।

যখনই সাহায্য চেয়েছি কেউ ফিরিয়ে দেয়নি

ডা. আনজুমান আরা ইসলাম

সাধারণ সম্পাদক, কার্যনির্বাহী কমিটি, চট্টগ্রাম মা শিশু হাসপাতাল

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল আন্তর্জাতিক শিশুবর্ষ ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমে শুধু শিশু আউটডোর ছিল। এখন তো ৪০ বছর হয়ে গেল। আমরা হাঁটি হাঁটি পা পা করে অনেক দূর এগিয়েছি। শুরুটা ছিল শুধু শিশুদের নিয়ে। আজ আমরা সব বয়সী মানুষকে সব রোগ নিরাময়ে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি। এটি সম্ভব হয়েছে চট্টগ্রামের আপামর জনতার কল্যাণে। যখনই আমরা কারও কাছ থেকে কোনো সাহায্য চেয়েছি, কেউ আমাদের ফিরিয়ে দেয়নি।

১৯৭৯ সালে শিশু আউটডোর হিসেবে হাসপাতালের যাত্রা হয়। ডাক্তার ও শিশু বিশেষজ্ঞরা ফ্রি কনসালট্যান্সি ও ওষুধ দিয়েছেন। এভাবে চাহিদা বাড়তে থাকে। ১০ বেড নিয়ে শিশু আন্তঃবিভাগ চালু হয় ১৯৮৫ সালে। ১৯৮৭ সালে শয্যা বাড়িয়ে ৩০ করা হলো। তখন আমরা চারটি বেড থেকে ১০০ টাকা করে ফি নিতে শুরু করলাম; কারণ সচ্ছল পরিবারের শিশুরাও আসতে শুরু করল। এরপর চাহিদা বাড়ায় ১০০ বেড করা হলো। তখন আমরা আর চলতে পারছিলাম না নিজস্ব খরচে। কারণ, কাজ করতে গিয়ে প্রতি মাসে আর্থিক সাহায্য দিতে হতো। তখনও মানুষের কাছ থেকে সাহায্য তো পেয়েই আসছি। এক পর্যায়ে আমরা সরকারের দ্বারস্থ হই। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এরশাদ সাহেব এলেন এবং এক কোটি টাকা অনুদান দিলেন। ৫০ লাখ টাকা দিলেন গণপূর্তকে উন্নয়ন বা স্থাপনার জন্য। আর ৫০ লাখ টাকা দিলেন বেড ও যন্ত্রপাতি কেনার জন্য। এভাবে যাত্রা শুরু করে আমরা এ পর্যন্ত এসেছি। আমাদের আর বেগ পেতে হয়নি। কারণ, অর্থটাই বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল আমাদের।

এখন আমাদের জেনারেল হাসপাতাল, সমৃদ্ধ গাইনি বিভাগ, অনেক অধ্যাপক, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রয়েছেন। আমাদের নতুন হাসপাতালে সার্জারি ও ক্যাথ ল্যাব হবে। সিসিইউ এখন রয়েছে। সব ধরনের আধুনিক সেবা চালু হবে এ হাসপাতালে। তবে শিশুরাই প্রধান। হাসপাতালে অর্ধেক শিশু ও অর্ধেক অন্যান্য রোগী। শিশু আইসিসিও থেকে শুরু করে শিশু কার্ডিওলজি ও ন্যাফ্রোলোজি রয়েছে। সবার ওপরে আমরা গরিব শিশুদের প্রাধান্য দিয়ে থাকি। আমরা ২৫টি ফ্রি বেড রেখেছি। এ ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনা আছে। শিশু ও মায়েদের পুষ্টিকর খাবার দিই। আমাদের মোটো হলো: কোনো রোগী ফেরত যাবে না, তার পয়সা থাক বা না থাক। পয়সা না থাকলে সে পয়সা জোগাড় করার দায়িত্ব আমাদের। হাসপাতালের মূল অর্থ আসে জাকাত ফান্ড থেকে। এছাড়া দান, সদকা ও আয় থেকে দু-তিন শতাংশ দিয়ে রোগীদের সেবায় খরচ করি। আমাদের এখান থেকে টাকার অভাবে কোনো রোগী ফেরত যায় না। চিকিৎসা শেষে যখন টাকা দিতে পারে না, বিশেষ করে ডায়ালাইসিস বিভাগে অর্ধেক, ২৫ শতাংশ বা পুরোটাই ফ্রি দেওয়া হয়। যার একবার কিডনি রোগ হলো, তার কিন্তু সর্বনাশ হয়ে যায়। যার একবার ক্যানসার হয়, তার সব শেষ হয়ে যায়। তাদের পাশে আমরা রয়েছি। আমাদের ক্যানসার বিভাগ চলছে। অনেক রোগী ভারত থেকে ফিরে এসে আমাদের ক্যানসার সেন্টার থেকে ভালো হয়েছে। কদিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণের অনুমতি পেয়ে যাব। বর্তমানে আমাদের সেই অর্থ আছে। ভবন করার অর্থ আমরা অনুদান থেকে পেয়েছি। মেশিনের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। আমরা জনগণের পাশে আছি। যার কেউ নেই, শিশু হাসপাতাল তার পাশে আছে।

মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রাম

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..