দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

৪০% ব্যয় বাড়লেও নিম্নমানের উপকরণে চলছে নির্মাণকাজ

এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর চার লেন

ইসমাইল আলী: ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর অংশটি চার লেন নির্মাণ প্রকল্প নেয়া হয় ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে। তবে চার বছর চার মাস পেরুলেও প্রকল্পটির অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ। এরই মধ্যে গত অক্টোবরে প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৪০ শতাংশ। বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পটির মেয়াদও। এরপরও মহাসড়কটির নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের উপকরণসামগ্রী।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে সঠিক সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারের নিয়োজিত জনবল ও নির্মাণসামগ্রী বৃদ্ধিসহ বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণকাজে মানসম্পন্ন উপকরণ ব্যবহারের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

তথ্যমতে, এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেন নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) অনুমোদন হয় ২০১৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। সে সময় প্রকল্পের কাজ শেষ করার মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২১ সালের আগস্ট। আর ব্যয় ধরা হয়েছিল ১১ হাজার ৮৯৯ কোটি এক লাখ টাকা। তবে গত অক্টোবরে প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। এতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৬৬২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ নির্মাণ ব্যয় বেড়ে গেছে চার হাজার ৭৬৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বা ৪০ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ। পাশাপাশি প্রকল্পটির মেয়াদও বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর করা হয়েছে।

ব্যয় বৃদ্ধির পর গত ২৭ নভেম্বর ‘সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২: এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি পরিদর্শন করে আইএমইডির প্রতিনিধি দল। এর ভিত্তিতে প্রণীত প্রতিবেদনটি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠানো হয়েছে গত ১১ জানুয়ারি। এতে বলা হয়েছে, চার বছরের বেশি সময় পেরুলেও প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ ও বাস্তব অগ্রগতি ১৫ দশমিক ২০ শতাংশ, যা মোটেও সন্তোষজনক নয়। ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) উল্লিখিত লক্ষ্য অনুযায়ী কাজের অগ্রগতি না হওয়ায় সরকারের অনেক অর্থ ও সময়ের অপচয় হয়েছে।

নির্মাণকাজের গুণগত মান প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির কাজে ব্যবহারের জন্য সংগৃহীত ইটের খোয়ার মধ্যে অনেক পোড়া ইটের (ঝামাইট) খোয়া পরিলক্ষিত হয়েছে। অতিরিক্ত পোড়া ইটের খোয়া রাস্তা নির্মাণকাজে ব্যবহার করলে রাস্তা টেকসই হবে না। তাই এগুলো পরিহার করা দরকার। এছাড়া প্রকল্পের কাজে ব্যবহারের জন্য সংগৃহীত স্টোন চিপস (পাথরের ছোট টুকরা) ও ইটের খোয়া ভালোভাবে ক্রাশ করা হয়নি।

এদিকে প্রকল্পটির আওতায় রাস্তার যেসব স্থানে পুকুর/ডোবা বা নিচু জায়গা ভরাট করে রাস্তা প্রশস্ত করতে হবে সেসব জায়গায় এইএসজি (ইম্প্রুভ সাব গ্রেড) দেয়ার আগে মাটি থেকে পানি/কাঁদামাটি ভালোভাবে অপসারণ করে শুকিয়ে নিতে হবে। তা না হলে মাটি আন্দোলিত (আর্থ সোয়েলিং) হয়ে রাস্তা ডেবে/বসে যেতে পারে। ফলে রাস্তা মোটেই টেকসই হবে না।

ভ‚মি অধিগ্রহণেও কিছুটা জটিলতা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইএমইডি। এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলএ কেসভিত্তিক ভ‚মি অধিগ্রহণের ৫১টি প্রস্তাব জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১টি এলএ কেসের জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে গাইবান্ধা ও রংপুর জেলায় ভ‚মি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ধীরগতির কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া প্রকল্পটির আওতায় নেসকোর ইউলিটি স্থানান্তর স্থবিরতায় বগুড়ায় নির্মাণকাজ শ্লথ হয়ে পড়েছে।

এদিকে প্রকল্পটিতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অডিট আপত্তি উঠেছে। এক্ষেত্রে বলা হয়, ইউটিলিটি স্থানান্তর বাবদ ৫৬ লাখ ২৯ হাজার ৪৯০ টাকা নেসকোকে দেয়া হয়েছে। তবে অডিট আপত্তিতে বলা হয়েছে, নেসকোকে প্রদত্ত অর্থের পরিমাণ অনেক বেশি। তবে এটি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ড. মো. ওয়ালিউর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, আইএমইডির প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি মোট ১৫টি প্যাকেজে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি প্যাকেজের আওতায় ১৯০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ ছাড়াও দুই হাজার ৬৩৫ মিটার দীর্ঘ তিনটি ফ্লাইওভার, ৪১১ মিটারের একটি রেল ওভারপাস, এক হাজার ৪৬১ দশমিক ৩৯ মিটার দীর্ঘ ২৬টি সেতু, এক হাজার ১০২ মিটার দীর্ঘ ১৬১টি কালভার্ট, ৩৯৭ মিটার দৈর্ঘ্যরে ৩৯টি ফুট ওভারব্রিজ এবং দেড় হাজার মিটারের একটি ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ করা হবে। এক্ষেত্রে ১২ প্যাকেজের ঠিকাদার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণে ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান আছে।

এর বাইরে দুটি প্যাকেজে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সড়ক পরিচালনা ইউনিট নিয়োগ করা হবে। এ দুই প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..