প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

৪৩০ কোটি টাকা ব্যয় হবে ১৩ নৌরুটে

চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ নৌপথ খননে চুক্তি সই

নিজস্ব প্রতিবেদক: অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ অঞ্চলের নৌ-করিডরের সক্ষমতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন এবং একে টেকসই খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ ও সংযুক্ত নৌপথ খনন এবং টার্মিনালসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ-সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর হোটেল রেডিসনে এ চুক্তি সই করা হয়।

চুক্তিপত্র অনুযায়ী, ১৩টি নৌরুটের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ খনন কাজ করবে ‘গালফ কবলা-কর্ণফুলী’ যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং ধারতি-বঙ্গ যৌথ প্রতিষ্ঠান। এজন্য ব্যয় হবে ৪৩০ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯০০ কিলোমিটার নৌপথ খনন, ছয়টি স্থানে নৌযানগুলোর ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, তিনটি ফেরি ক্রসিং এলাকায় সংরক্ষণ ড্রেজিং, চারটি প্যাসেঞ্জার ও দুটি কার্গো টার্মিনাল নির্মাণ ও উন্নয়ন, ১৫টি ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ এবং দুটি মাল্টিপারপাস ভেসেল সংগ্রহ করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডরের আশুগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালে মূল নদী ও শাখায় (প্রায় ৯০০ কিলোমিটার নৌপথ) পারফরম্যান্স বেজ্ড কন্ট্রাক্ট ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ ও নাব্য সংরক্ষণ করা হবে। এ নৌ-করিডরের মধ্যে ছয়টি স্থানে নৌযানের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত স্থানগুলোÑষাটনল, চরভৈরবী, চাঁদপুর, মেহেন্দীগঞ্জ, সন্দ্বীপ ও নলচিরা। ওই নৌরুটের তিনটি ফেরি ক্রসিং (চাঁদপুর-শরীয়তপুর, লক্ষ্মীপুর-ভোলা ও ভেদুরিয়া-লাহারহাট) এলাকায় সংরক্ষণ ড্রেজিং; চারটি প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল নির্মাণ ও উন্নয়ন (ঢাকা শ্মশানঘাট, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর ও বরিশাল) এবং দুটি কার্গো টার্মিনাল নির্মাণ ও উন্নয়ন (পানগাঁও ও আশুগঞ্জ); নৌ-করিডরটির বিভিন্ন স্থানে (ভৈরববাজার, আলুবাজার, হরিণা, হিজলা, মজু চৌধুরী, ইলিশা, ভোলা, ভেদুরিয়া, লাহারহাট, বদ্দারহাট, দৌলতখাঁ, চেয়ারম্যানঘাট (চরবাটা), সন্দ্বীপ, তজুমদ্দিন, মনপুরা এবং তমুরুদ্দিনে ১৫টি ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ এবং দুটি মাল্টিপারপাস ভেসেল সংগ্রহ করা হবে।

অনুষ্ঠানে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নৌপথের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ কমাতে দেশের নৌপথের সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। স্বাধীন বাংলাদেশের উন্নয়নকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে থমকে দেয়া হয়েছিল। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পঁচাত্তর-পরবর্তী সরকার দেশের নৌপথসহ কোনো পথই উন্নয়ন করেনি।

এরপর বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে দেশের নৌপথ আবার উদ্ধার ও উন্নয়নে হাত দেন। আজ যেই দুটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তার কাজ সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের নৌপথের যে অগ্রগতি হবে, তাতে দেশের নৌপথ ব্যবহারকারী পণ্যবাহী যান ও যাত্রীরা আরও সচ্ছন্দে নিজ গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন।

প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থিতিতে চুক্তিপত্রে সই করেন প্রকল্প পরিচালক বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আইউব আলী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গালফ কবলা-কর্ণফুলী যৌথ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশিদ, অপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ধারতি-বঙ্গ যৌথ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বঙ্গ ড্রেজার্স লিমিটেডের পরিচালক মো. আইনুল ইসলাম।

এ সময় অন্যদের মধ্যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তিপত্র অনুযায়ী ১৩টি নৌরুটের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ খনন কাজ করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গালফ কবলা-কর্ণফুলী যৌথ প্রতিষ্ঠান এবং ধারতি-বঙ্গ যৌথ প্রতিষ্ঠান।