বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

৪৭ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর উন্নয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ প্রকল্পের (প্রাইড) মাধ্যমে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এ ঋণের সিংহভাগ ৪৬ কোটি ৭৫ লাখ ব্যয় করা হবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) আওতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর উন্নয়নে। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পনগরটিকে আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ উপলক্ষে বিশ্বব্যাংক ও বেজার মধ্যে সম্প্রতি  চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

বিশ্বব্যাংকের অঙ্গসংস্থা আইডিএ’র পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন। আর বেজার পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংস্থাটির নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা। প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ঋণ তিন হাজার ৯৬৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন ৩৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের আওতাধীন অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে উৎসাহিতকরণ এবং দেশব্যাপী অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের মূলধারায় টেকসইকরণ ও পরিবেশ সহনশীলতা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

প্রকল্পটিতে যেসব উদ্দেশ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছেÑবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের জোন-২এ ও জোন-২বি এবং পারিপার্শ্বিক অন্যান্য জোনে বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরকে পরিবেশ সহনশীল গ্রিন অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে টেকসইকরণ এবং পরিবেশ সহনশীলতা নীতি ব্যবহারের উপকারিতাসমূহ প্রদর্শন করা; এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের আওতাধীন অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণপূর্বক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

এসব উদ্দেশ্য সফল করার জন্য যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে, তার মধ্যে রয়েছেÑপ্রকল্পের আওতায় জোন-২এ ও জোন-২বি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অভ্যন্তরের সড়ক ও সংযোগ সড়ক মিলিয়ে মোট ৩০ কিমি. সড়ক নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত। আকস্মিক পানি নিষ্কাশনের জন্য ৩১ কিমি ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য ভূমি উন্নয়ন করে শিল্প-স্থাপন উপযোগী করতে প্রায় ৯৯০ একর ভূমি উন্নয়নের প্রস্তাব করা করা হয়েছে।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইনভেস্টরস ক্লাব এবং একটি ওএসএস কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এছাড়া কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য চারটি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র এবং ২০ কিমি. সরবরাহ লাইন, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগসহ টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাকরণে ২৫ কিমি. অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন, শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহের নিমিত্ত দুটি ডিআরএসসহ ২৮ কিমি. গ্যাস পাইপলাইন, পানি সরবরাহের জন্য ৪০ কিমি. দীর্ঘ পানির পাইপলাইন এবং বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য স্যানিটারি পাইপলাইন, অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ইছাখালী খালের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্পনগরের সুরক্ষার জন্য প্রায় ৪০ কিমি. দৈর্ঘ্যরে সীমানা প্রাচীর স্থাপনের কাজ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

শিল্পকারখানার বর্জ্য পরিশোধনে ৪৮ এমএলডি ক্যাপাসিটি সম্পন্ন কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার এবং কঠিন বর্জ্য পরিশোধনে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট স্থাপনের পাশাপাশি বায়োগ্যাস প্লান্ট, বর্জ্য বাছাইকরণ ও পণ্য পুনরুদ্ধার সুবিধা স্থাপনের পরিকল্পনাও এতে সন্নিবেশিত রয়েছে।

এ প্রকল্পের আওতায় শিল্প কলকারখানায় নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের জন্য রূফটপ ও ভাসমান সৌর প্যানেল প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া শিল্পকারখানায় পানির চাহিদা নিরসনে ৩০ এমএলডি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন লবণ সংশোধনাগার স্থাপন এবং স্টিমের চাহিদা মেটাতে ১২ দশমিক ১৪ কিমি. দীর্ঘ স্টিম নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে এ প্রকল্পের আওতায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের পরিবেশ ও অন্যান্য প্যারামিটার স্ট্যান্ডার্ড পরীক্ষার জন্য পরিবেশগত পরীক্ষাগার ও পরিবীক্ষণ পদ্ধতি স্থাপন কার্যকম প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্যান্য অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে শিশু দিবাযতœ ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, জরুরি সাড়া প্রদান কেন্দ্র স্থাপন, শেখ হাসিনা সরোবরের সৌন্দর্য বর্ধন ও সবুজায়ন এবং মসজিদ নির্মাণ।

গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। এছাড়া ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী এ শিল্পনগরের জন্য মাস্টারপ্লান অনুমোদনের সভা থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন অনুশাসনের ভিত্তিতে মাস্টারপ্লান সংশোধন করা হয়। বেজার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩০ হাজার একরেরও বেশি আয়তনের এ নগরে ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক ও শিল্পজোন হিসেবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বারে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও অর্থনীতির এক মহাজংশন হিসেবে প্রস্তুত হচ্ছে নগরটি। দৃশ্যমান অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভূ-কৌশলগত সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানের ফলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েই চলেছে। দেশি-বিদেশি নামিদামি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ ও শিল্পায়নে এগিয়ে এসেছে যাদের মধ্যে রয়েছে-বার্জার, এশিয়ান পেইন্টস, টিকে গ্রুপ, ওয়ালটন, সামিট, বসুন্ধরা, জিপিএইচ, হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস প্রভৃতি। এই শিল্পনগরের ২এ ও ২বি, ৩, ৪ এবং ৫ জোনগুলোর প্রায় দুই হাজার একর এলাকায় শিগগিরই শিল্প ইউনিট স্থাপনের কাজ শুরু হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..