প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

৪ হাজার ৬২১ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিটাকের ৬টি নতুন আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনসহ ১০ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬২১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৫৫ কোটি ২১ লাখ টাকা জোগান দেয়া হবে। আর বৈদেশিক ঋণ থেকে পাওয়া যাবে এক হাজার ৫৬৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে গতকাল অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। এ সময় পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মামুন-আল-রশীদ এবং আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মোসাম্মৎ নাসিমা বেগমসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘ইউরিয়া সারের উৎপাদন বাড়াতে ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ প্লান্ট স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কেননা আমাদের প্রচুর সারের চাহিদা রয়েছে। উদ্যোক্তারা বিদেশ থেকে আমদানি করুক, সমস্যা নেই। কিন্তু আমরা নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদনে জোর দিয়েছি। যাতে কেউ আমাদের বিপদে ফেলতে না পারে। যেমন খাদ্য উৎপাদনে ব্যয় বেশি হলেও প্রকল্প নিচ্ছি। যাতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। তেমনি খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে ইউরিয়া স্যারের সম্পর্ক আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ পাসপোর্ট পেত না। লন্ডনে সে সময় পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষ দিয়ে ভরা ছিল। আমরা বাংলাদেশ হওয়ার পর পাসপোর্ট প্রাপ্তি সহজ করেছি। এখন আরও উন্নত ও সহজীকরণ করা হচ্ছে। যাতে মানুষ সহজেই ও নির্ভুল পাসপোর্ট পেতে পারে।’ তিনি জানান, পায়রা, লেবুখালী ও কুয়াকাটা মিলে একটি অভ্যন্তরীণ পর্যটন হাব গড়ে তোলা হবে। ওই অঞ্চলটিতে উন্নয়ন কার্যক্রমের কারণে ইতোমধ্যেই বদলে গেছে। আপনারা গেলে দেখে আসতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে স্থাপন হচ্ছে বিটাকের ৬ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এ জন্য ‘গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, রংপুর, জামালপুর এবং যশোর জেলায় বিটাকের ৬টি কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৩২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শিল্প খাতে প্রশিক্ষিত জনবল সৃষ্টির মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় শিল্পের জন্য কারিগরি জনবল সৃষ্টি, প্রত্যন্ত অঞ্চলের যুব নারী ও পুরুষ প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য আধুনিক সুবিধার কারিগরি প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য উপযোগী অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। সেই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তির প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণে কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো নেত্রকোনা-বিশিউড়া-ঈশ্বরগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন, এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২২০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ভবন নির্মাণে ব্যয়  ৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। ১৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণে ব্যয় হবে ১২৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।