বিশ্ব বাণিজ্য

৫৭ বছরের মধ্যে সর্বনিন্মে দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি

শেয়ার বিজ ডেস্ক : করোনার কারণে মন্দায় এখন এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। ১৭ বছর পর এই প্রথম টানা দুই প্রান্তিকে পতনের কারণে দেশটির রপ্তানি কমে পৌঁছেছে ৫৭ বছরের মধ্যে সর্বনিন্মে। খবর: বিবিসি।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে দুই দশমিক ৯ শতাংশ। যা আশঙ্কা করা হয়েছিল, এটি তার চেয়েও অনেক বেশি। ১৯৯৮ সালের পর সর্বাধিক অবনতি। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি ব্যাপকভাবে রপ্তানিনির্ভর। দেশটির অর্থনীতির ৪০ শতাংশ রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। করোনার কারণে রপ্তানি অনেক কমেছে। এতে ১৯৬৩ সালের পর সবচেয়ে কমেছে রপ্তানি। সব মিলিয়ে অর্থনীতিকে মন্দায় ফেলে দিয়েছে।

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থমন্ত্রী হং নাম কি অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে, এ বিষয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষে তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের মতো প্রত্যাবর্তন দেখা সম্ভব। কারণ উৎপাদন, স্কুল ও হাসপাতালগুলো খুলে গেছে।’ দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এখন পর্যন্ত করোনার প্রভাব মোকাবিলায় ২৩ হাজার ১০০ কোটি ডলার প্রণোদনা বাস্তবায়ন করেছে। তবে বাণিজ্যনির্ভর দেশটির রপ্তানিতে কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ খুবই কম। কম্পিউটারের মেমোরি চিপ থেকে শুরু করে গাড়ি পর্যন্ত রপ্তানি করে তারা। এখানে দেশটির রপ্তানি পণ্যের গন্তব্যস্থলগুলোর অবস্থা করোনার কারণে কী রকম দাঁড়িয়েছে, সেটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি পণ্যের অন্যতম গন্তব্যস্থল হলো অস্ট্রেলিয়া। করোনার সংক্রমণ এখনও সেখানে বেড়েই চলেছে। এরই মধ্যে দেশটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তাদের সর্বোচ্চ বাজেট ঘাটতির কথা জানিয়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বাজেট ঘাটতির পরিমাণ ছয় হাজার ১৩০ কোটি ডলার, যা আরও বাড়বে বলেই মনে করছে তারা।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, জাপান ও সিঙ্গাপুর উভয়ই মন্দায় পড়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে জাপানের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে তিন দশমিক চার শতাংশ হারে। এতে ২০১৫ সালের পর প্রথমবারের মতো মন্দায় পড়েছে দেশটি। গত সপ্তাহে খারাপ খবর শুনিয়েছে সিঙ্গাপুরও। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে গত বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ছয় শতাংশ হারে, যা কিনা ১৯৬৫ সালে মালয়েশিয়া থেকে আলাদা হওয়ার পর সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। তবে সবাই তলানিতে ঠেকলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে চীন। গত সপ্তাহে চীন জানায়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির প্রবৃদ্ধি হয়েছে গত বছরের তুলনায় তিন দশমিক দুই শতাংশ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..