খবর

৫ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত সিলেট-৩ উপনির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক: কভিড-১৯ বিস্তার রোধে জারি করা লকডাউনের মধ্যে বুধবার অনুষ্ঠেয় সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। নির্বাচন স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ আইনজীবী এবং ওই আসনের সাত ভোটারের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল একক বেঞ্চ গতকাল এ স্থগিতাদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। এ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদাকে উকিল নোটিস পাঠানোর এক দিনের মাথায় গতকাল সকালে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করা হয়।

নির্বাচন কমিশন সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, ‘আমরা আদালতের একটি আাদেশ পেয়েছি। সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন ৫ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।’

মহামারির কারণে কয়েক দফা পিছিয়ে ২৮ জুলাই এ উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সেই তারিখও এখন পিছিয়ে গেল।

গত ১১ মার্চ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে সিলেট-৩ আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের শর্ত ৪ অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার দিন থেকে নব্বই দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে দৈব-দূর্বিপাকের কারণে যদি এই নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন করা না যায় তাহলে পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন করার কথা বলা আছে ওই শর্তে। সে অনুযায়ী এ নির্বাচন করার জন্য ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় পাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, ‘আদালতের আদেশটি কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হবে। কবে ভোট করা যাবে সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত হবে।’

আদালতের আদেশের পর রিটকারীপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, সিলেট অঞ্চলে কভিড পরিস্থিতি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এমনকি প্রিজাইডিং অফিসারও মারা গেছেন। আমাদের যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত উপনির্বাচনটি স্থগিত করা হয়েছে। আলাপ-আলোচনা করে ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ নির্বাচন করার কথা বলেছেন হাইকোর্ট।

বুধবার ইভিএমে সিলেটের ভোট করার সব প্রস্তুতি গুছিয়ে এনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা গত শনিবার বলেছিলেন, ‘আইনি ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন। ভোট হবে ইভিএমে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোট গ্রহণের জন্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’

সোমবার আদালতের স্থগিতাদেশ আসার পর নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘৫ তারিখ পর্যন্ত লকডাউন, আদালত সে পর্যন্ত স্থগিত করেছে। লকডাউনের সময় আরও বাড়ে কিনা তাও দেখার বিষয় রয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আদালতের আদেশ পর্যালোচনা করে আমাদের পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..