প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

৫ খাতের দরপতনে সূচক নিন্মমুখী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল পুঁজিবাজারে সূচকের নিন্মমুখী প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক কমেছে ১৭ পয়েন্টের বেশি। লেনদেনের শুরু থেকে পতনের তালিকায় নাম লেখায় মূল্যসূচকে সবচেয়ে বড় প্রভাব রাখে গ্রামীণফোন।

গত বুধবার (২৯ জুন) ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সংযোগে গ্রাহকদের ‘মানসম্মত সেবা দিতে না পারার’ কারণ দেখিয়ে গ্রামীণফোনের নতুন সিম বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় বিটিআরসি। এতে কোম্পানিটির শেয়ারদর কমে ২৮৮ টাকা ৩০ পয়সায় এসে দাঁড়ায়। গ্রামীণফোনের শেয়ারের এই দাম কমার প্রভাব পড়ে সার্বিক পুঁজিবাজারে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাঁচ খাতে নি¤œমুখী প্রবণতার কারণে বাজারে মূল্য সূচক কমেছে। খাতগুলো হচ্ছেÑপ্রকৌশল, বস্ত্র, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক এবং ঔষধ ও রসায়ন খাত।

প্রকৌশল খাতে লেনদেন হওয়া ৪২টি কোম্পানির মধ্যে ৩১টির বা ৭৩ দশমিক ৮১ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়েছে। ৯টির বা ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে ১টির বা ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ কোম্পানির। এ খাতে সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে রংপুর ফাউন্ড্রির ৩ টাকা ৪০ পয়সা বা ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ, নাভানা সিএনজির ৬০ পয়সা বা ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ, এটলাস বাংলাদেশের ২ টাকা ১০ পয়সা বা ১ দশমিক ৯২ শতাংশ।

বস্ত্র খাতে লেনদেন হওয়া ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ৪৩টির বা ৭২ দশমিক ৮৮ শতাংশ কোম্পানির দর কমেছে। এর মধ্যে ৯টির বা ১৫ দশমিক ২৫ শতাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধি পেয়েছে। সাতটির বা ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ কোম্পানির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। খাতটিতে সবচেয়ে বেশি দর কমেছে অলটেক্সের ৫০ পয়সা বা ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, তামিজ উদ্দিন টেক্সটাইলের ৪ টাকা বা ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের ১ টাকা ৫০ পয়সা বা ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে লেনদেন হওয়া ২৩টি কোম্পানির মধ্যে ১৬টির বা ৬৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ কোম্পানির দর কমেছে। ছয়টির বা ২৬ দশমিক ৯০ শতাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে ১টির বা ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ কোম্পানির। সবচেয়ে বেশি দর কমেছে তিতাস গ্যাসের ৮০ পয়সা বা ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ, লুবরেফের ৭০ পয়সা বা ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ, ডেসকোর ৬০ পয়সা বা ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে লেনদেনে হওয়া ২১টি কোম্পানির মধ্যে ১৩টির বা ৬১ দশমিক ৯০ শতাংশ কোম্পানির পতন হয়েছে। ৮টির বা ৩৮ দশমিক ১০ শতাংশ কোম্পানির দর বাড়ে। সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে ফু-ওয়াং ফুডের ৫০ পয়সা বা ২ শতাংশ, ন্যাশনাল টি কোম্পানির ১৩ টাকা ২০ পয়সা বা ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ, অ্যাপেক্স ফুডের ৩ টাকা ৫০ পয়সা বা ১ দশমিক ৯২ শতাংশ।

ঔষধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হওয়া ৩০টি কোম্পানির মধ্যে ১৮টির বা ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ কোম্পানির পতন হয়েছে। দর বৃদ্ধি পেয়েছে ১২টি বা ৩৮ দশমিক ৭১ শতাংশ কোম্পানির। দর অপরিবর্তিত রয়েছে একটির বা ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ কোম্পানির। এ খাতে সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে ইবনে সিনা ফার্মার ৪ টাকা ৫০ পয়সা বা ১ দশমিক ৫২ শতাংশ, কেয়া কসমেটিকসের ১০ পয়সা বা ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ, রেনাটা লিমিটেডের ১৭ টাকা ৭০ পয়সা বা ১ দশমিক ৩২ শতাংশ।

ডিএসই’র সূচক ডিএসইএক্স ১৭ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৫৯ দশমিক ৭৭ পয়েন্টে। ডিএসইর অন্য সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ২ দশমিক ০৩ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৪ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে এক হাজার ৩৮৪ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে এবং দুই হাজার ২৯১ দশমিক ২১ পয়েন্টে। টাকার পরিমাণে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬৫৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার, যা আগের কার্যদিবস থেকে ২৮২ কোটি ৯১ লাখ টাকা কম। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৯৩৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকার। ডিএসইতে ৩৮২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২০টির বা ৩১ দশমিক ৪১ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। দর কমেছে ২১৯টির বা ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশের এবং ৪৩টির বা ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।