বিশ্ব সংবাদ

৬০ হাজার মার্সিডিজ গাড়ি প্রত্যাহার করছে ডেইমলার

কার্বন নির্গমন কেলেঙ্কারি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: কার্বন নির্গমন কেলেঙ্কারির জেরে জার্মানির গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি ডেইমলার তার ডিজেলচালিত মার্সিডিজ বেনজ ব্র্যান্ডের ৬০ হাজার গাড়ি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হচ্ছে। কার্বন নির্গমন তথ্য গোপন করার লক্ষ্যে এসব গাড়িতে একটি সফটওয়্যার স্থাপনের প্রমাণ পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটিকে প্রত্যাহারের এ আদেশ দিয়েছে। গতকাল দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
ডেইমলার নিশ্চিত করেছে গত শুক্রবার তারা গাড়ি প্রত্যাহারের এ আদেশ পেয়েছে। ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রস্তুতকৃত মার্সিডিজ বেনজ জিএলকে ২২০ মডেলের গাড়িগুলো প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে জানিয়েছে।
এদিকে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা অন্য মডেলের গাড়িগুলোতে তাদের তন্তের পরিধি বাড়াবে। ২০১৫ সালে প্রতিপক্ষ ভক্সওয়াগনের গাড়িতে কার্বন নির্গমনের তথ্য গোপনের লক্ষ্যে পাওয়া সফটওয়্যারের পর অন্য গাড়ি কোম্পানিগুলোর ওপরও নজরদারি করে কর্তৃপক্ষ।
প্রতিযোগিতায় এগিয়ে গাড়ির বিক্রি বাড়াতে গোপন চাতুরতার পথ বেছে নেয় জার্মানির বহুজাতিক কোম্পানি ভক্সওয়াগন। প্রতিষ্ঠানটি তাদের তৈরি গাড়িতে এমন একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে; যা কার্বন নির্গমনের প্রকৃত তথ্য দেবে না। বরং নির্ধারিত মাত্রার মধ্যে কার্বন রয়েছে এমন তথ্য দেখাবে। সফটওয়্যারটি কোম্পানির পাসাত ও অডি এ৩ কম্প্যাক্ট মডেলের ডিজেল ইঞ্জিনে ব্যবহার করা হয়।
২০১৫ সালের বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ভক্সওয়াগনের গাড়িতে দূষণ নিরূপণ যন্ত্রে ত্রুটি ধরা পড়ে। পরে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটি ১০ লাখ গাড়িতে দূষণ নিরূপণ যন্ত্রে ত্রুটি রয়েছে।
এরপর এ নিয়ে ভক্সওয়াগনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি মালিকরা। একাধিক আদালত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা ভক্সওয়াগনকে জরিমানা করে। সব মিলিয়ে এ কেলেঙ্কারিতে জরিমানা হয়েছে ৩০ বিলিয়ন ডলার। শুধু চলতি বছরেই ডিজেল কেলেঙ্কারিতে ১৪ দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণ দিয়েছে ভক্সওয়াগন। এতে করে গত দুবছরে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে কোম্পানিটি।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..