৭৬ দিন পর ভারতীয় ট্রাক প্রবেশ করলো বাংলাদেশে

প্রতিনিধি, বেনাপোল: বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৭৫ দিন পর বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে বন্দরের কার্যক্রম শুরু হলেও ৭৬ দিন পর রোববার (৭ জুন) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে হিরো ইন্ডাস্ট্রিজের মটরসাইকেল যন্ত্রাংশ বোঝাই একটি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

বেনাপোল বন্দর ও কাস্টম সূত্র জানায়, বহু দেনদরবার, বৈঠক, আলোচনা, পর্যালাচনা, প্রতীক্ষিত প্রত্যাখ্যাত দেনদরবারের পর পুনরায় বন্দর চালু হয়েছে। এনবিআরের রেলওয়ের মাধ্যমে পণ্য আমদানির সাম্প্রতিক অনুমতি, অচলাবস্থা দ্রুত কাটতে সহায়ক হয়েছে। স্থলপথে আমদানি-রপ্তানি চালুর জন্য স্থানীয় নেতাদের ওপর চাপ সৃস্টি করে ভারতের পেট্রাপোল বন্দর এলাকার শ্রমিকসহ ট্রাক মালিক ও চালকরা। বনগাঁর নীতিনির্ধারক ও অংশীজনরা বাধ্য হয়ে তড়িঘড়ি করে বসে বাণিজ্য চালুর উদ্যোগ নেন।

সূত্র আরো জানায়, রেলপথে বাণিজ্য চালু এ অচলাবস্থায় বেনাপোলের বড় সাফল্য। গত আড়াই মাস স্থলবন্দরে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় আমরা কাস্টম হাউস থেকে বিকল্পে রেলপথ চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। সম্প্রতি রেলে মশলা, খাদ্যদ্রব্য, ধানবীজ ও কাঁচামাল আমদানি শুরু হয়েছে। শিশুখাদ্য, প্রসাধনী সামগ্রির চালান প্রস্তুত। রেলবাণিজ্য এদিকে নতুন গতি পাচ্ছে। ৫ জুন ১৯টি পণ্যচালান ৪২টি রেলওয়াগনে আসে। এগুলোতে ২ হাজার ৬০০ টন শুকনা মরিচ, হলুদ ও আদা আমদানি হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। আজও রেলওয়াগনে আদা, হলুদ ও শুকনো মরিচের ১১টি চালান এসেছে।

অপরদিকে, দুদেশে লকডাউন শিথিলের পর আমদানি-রপ্তানি শুরু করতে গত বৃহস্পতিবার বিকালে সীমান্তের জিরো পয়েন্ট এলাকায় দুই দেশের প্রশাসন ও ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠকে দুই দেশের সড়কপথে আমদানি-রপ্তানি শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।

করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৩ মার্চ থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দু’দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গত ২৪ এপ্রিল আমদানি-রপ্তানির অনুমোদন দিলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুমতি না থাকায় দীর্ঘদিন সড়কপথে বন্ধ ছিল বাংলাদেশ-ভারতের বাণিজ্য।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বারবার চিঠি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে স্থলবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য শুরুর অনুমতি দেয়ার অনুরোধ করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন।

এছাড়াও বনগাঁর সিন্ডিকেটের কারণেও বাণিজ্যে জটিলতা দেখা দেয়। পরে রেলওয়ের মাধ্যমে পণ্য আমদানির অনুমতি দেয়ায় স্থলপথে আমদানি-রপ্তানির ওপর চাপ সৃস্টি করে ভারতের পেট্রাপোল বন্দর এলাকার শ্রমিকসহ ট্রাক মালিক ও চালকরা। বাধ্য হয়ে তড়িঘড়ি করে বৈঠকে বসে দু’দেশের কর্তৃপক্ষ। বৈঠকে আমদানি-রপ্তানি চালু করতে রাজি হয় ভারতের প্রশাসনসহ বনগাঁ সিন্ডিকেট।

তবে করোনার সংক্রমণ নিয়ে আশঙ্কা থাকায় সীমান্ত অতিক্রমের আগেই গাড়ি চালকদের শারীরিক অবস্থার পরীক্ষা করা হবে। এছাড়াও ট্রাকগুলো উভয় দেশে স্যানিটাইজ করা হবে। ফেরার সময়ও চালকদের শারীরিক পরীক্ষা হবে। একইসঙ্গে দ্রুত পণ্য খালাস করে দিনের মধ্যেই ট্রাকগুলো ফিরে যাবে।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে আমদানি-রপ্তানির জন্য ৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক দিতে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা সম্মতি দিয়েছেন। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্রাকের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে।

বেনাপোল স্থল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চালু করতে বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় চালকরা যাতে পোর্টের বাইরে যেতে না পারে সে ব্যাপারে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।


সর্বশেষ..