শেয়ার বিজ ডেস্ক : দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহের সূচকে নিম্নমুখিতা দেখা গেছে। আলোচ্য সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ৩ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৮৭ দশমিক ৪০ শতাংশ সিকিউরিটিজের দরপতন হয়েছে। ডিএসইর সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায় গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৫৪ দশমিক ২৮ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ১২২ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৪৭ দশমিক ১৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৪১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৯৮৮ পয়েন্ট। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ৪৩ দশমিক ৪২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৮৩ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৯ টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৪০টির, কমেছে ৩৪০টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৯টির। আর লেনদেন হয়নি ২৪টির। গত সপ্তাহে সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ওরিয়ন ইনফিউশন, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ ও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ৪৮৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪৫৭ কোটি ৩৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে ওষুধ ও রসায়ন খাতের আধিপত্য ছিল। লেনদেন চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১২ দশমিক ৮৮ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষ অবস্থান করছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ১২ দশমিক ৮০ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বস্ত্র খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। ব্যাংক খাত ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার পঞ্চম অবস্থানে ছিল কাগজ ও মুদ্রণ খাত।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে তিনটি খাত বাদে সব খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। এছাড়া জীবন বীমা খাতে ৮ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে গত সপ্তাহে পাট খাতে সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এছাড়া সেবা ও আবাসন খাতে দশমিক ৭৯ ও করপোরেট বন্ড খাতে দশমিক ২৫ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই গত সপ্তাহে ২ দশমিক ২৯ শতাংশ কমে ১৩ হাজার ৯৫৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ কমে ৮ হাজার ৬১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ৯৭ কোটি ২০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩০০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৬৭টির, কমেছে ২১২টির আর দর অপরিবর্তিত ছিল ২১টির।
এস এস/
প্রিন্ট করুন








Discussion about this post