Print Date & Time : 9 May 2021 Sunday 1:14 pm

৮ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৯ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায়

প্রকাশ: March 7, 2021 সময়- 11:22 am

## লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮ মাসে রাজস্ব আদায় প্রবৃদ্ধি ১১৪%

## গত অর্থবছরের তুলনায় ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১৬২%

রহমত রহমান: রংপুরের হিলি স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশন। বাণিজ্যের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এ বন্দরের প্রতি ব্যবসায়ীদের আস্থা বাড়ছে। ফলে প্রতিদিনই এই স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি পণ্যের পরিমাণ বাড়ছে। যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজস্ব। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ রাজস্ব আদায় হয়েছে। শুধু তাই নয়, চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) হিলি শুল্ক স্টেশনে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২৯ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১৪ শতাংশ।

আর গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮৫ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। গত অর্থবছরের আদায়ের তুলনায় ৮ মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬২ শতাংশ। কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যবসার পরিবেশ তৈরি, নজরদারি বৃদ্ধি ও দ্রুত পণ্য খালাস হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এ বন্দর মুখী হচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে অর্থবছর শেষে এ স্টেশনে গত অর্থবছরের চেয়ে দ্বিগুণ রাজস্ব আদায় হবে।

হিলি শুল্ক স্টেশন সূত্রমতে, হাকিমপুরের হিলি বন্দর দিয়ে পাথর, চাল, তোকমা, ইসোবগুল ভুষি, বাদাম, কাঁচা মরিচ, আদা, ভুট্টা, গম, জিরা, রাইস ব্রান, খৈল, পেঁয়াজ, স্যান্ড ষ্টোন, কোদাল, ক্লে পাউডার, ফিস মিল ইনগ্রিডিয়েন্ট, শুঁটকি, চায়না ক্লে, সয়াবিন আমদানি হয়। তবে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় চাল ও পাথর। এ পর্যন্ত হিলি বন্দর দিয়ে মোট ৭০ হাজার ৯৫৯ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন (১৭৩৫ গাড়ি) চাল আমদানি হয়েছে। যার মধ্যে খালাস হয়েছে ৬৬ হাজার ৪১৮ দশমিক ১৭ মেট্রিক টন (১৬১১ গাড়ি)। এখনো খালাস হয়নি ৪ হাজার ৫৪১ দশমিক ৫৭ মেট্রিক টন চাল।

হিলি শুল্ক স্টেশন সূত্রমতে, চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ৮ মাসে এ স্টেশনে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২২০ কোটি ২৮ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৮ কোটি ৪৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আহরণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১৪ শতাংশ। আর গত অর্থবছর একই সময় (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৩৫ কোটি ৬৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। চলতি অর্থবছর অর্থবছর ৮ মাসে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৪ কোটি ৬০ লাখ ১৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছরের আদায়ের তুলনায় ৮ মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬২ শতাংশ।

হিলি শুল্ক স্টেশনের হিসাবমতে, হিলি শুল্ক স্টেশনে চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে গত অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ রাজস্ব আদায় হয়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪৭ কোটি ১৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। যা গত অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় ২৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বেশি। জুলাই মাসে আদায় হয়েছে ৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা, যা গত অর্থবছরের জুলাইয়ের তুলনায় ৩২ কোটি ৩৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা বেশি। আগস্ট মাসে আদায় হয়েছে ২০ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা, যা গত অর্থবছরের আগস্টের তুলনায় ১১ কোটি ৫৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা বেশি।

আরো দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে আদায় হয়েছে ২০ কোটি ৬৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, যা গত অর্থবছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ৬ কোটি ৪৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বেশি। অক্টোবর মাসে আদায় হয়েছে ১৮ কোটি ৬৮ লাখ ২২ হাজার টাকা, যা গত অর্থবছরের অক্টোবরের তুলনায় ৬ কোটি ৮৯ লাখ ১০ হাজার টাকা বেশি। নভেম্বর মাসে আদায় হয়েছে ২৬ কোটি ৬০ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, যা গত অর্থবছরের নভেম্বরের তুলনায় ৮ কোটি ৩৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা বেশি। ডিসেম্বর মাসে আদায় হয়েছে ২২ কোটি ২১ লাখ ১ হাজার টাকা, যা গত অর্থবরের ডিসেম্বরের তুলনায় দুই কোটি ৩০ লাখ ১৫ হাজার টাকা কম। জানুয়ারি মাসে আদায় হয়েছে ২০ কোটি ৮১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, যা গত অর্থবছরের জানুয়ারি মাসের চেয়ে চার কোটি ২৮ লাখ ২০ হাজার টাকা কম।

হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দ্রুত পণ্য খালাস হচ্ছে। কোন প্রকার হয়রানি নেই। ফলে ব্যবসায়ীদের আস্থা তৈরি হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি বাড়লে রাজস্ব কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। সেক্ষেত্রে বন্দর ও শুল্ক স্টেশনের যন্ত্রপাতি, জনবল বৃদ্ধি, সড়ক সংস্কার করার কোন বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে হিলি শুল্ক স্টেশনের ডেপুটি কমিশনার সাইদুল আলম রুবেল শেয়ার বিজকে বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিকভাবে বন্দর পরিচালনা ও দ্রুত সময়ে পণ্য খালাস হওয়ায় ব্যবসায়ীদের ইজ অব ডুয়িং বিজনেস কমে আসছে। ফলে ব্যবসায়ীদের এ বন্দরের প্রতি আস্থা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া আমরা নজরদারি বৃদ্ধি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করেছি। যার ফলে রাজস্ব বাড়ছে।’

রংপুর ভ্যাট কমিশনার শওকত আলী সাদী শেয়ার বিজকে বলেন, ‘ব্যবসার পরিবেশ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা যাতে কোন প্রকার হয়রানির শিকার না হওয়া সেজন্য কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে আমদানি বাড়ছে। বিশেষ করে পাথর ও চাল আমদানি বেড়েছে। যার ফলে রাজস্ব বাড়ছে।’

###