বিশ্ব সংবাদ

৯ বছরের মধ্যে এশিয়ার পুঁজিবাজারে বড় সাপ্তাহিক উত্থান

শেয়ার বিজ ডেস্ক : টানা কয়েক দিন বিশ্ব পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ২০১১ সালের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক উত্থান হয়েছে এশিয়ার পুঁজিবাজার সূচকে। ইউরোজোনের অর্থনৈকিক মন্দা অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক ব্যাপক প্রদক্ষেপ নিয়েছে। এর প্রভাবে ডলারের বিপরীতে ইউরোর দাম বেড়ে দেড় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। পুঁজিবাজারের উত্থানের পেছনে এটি অন্যতম কারণ। খবর: রয়টার্স।

গতকাল জাপান বাদে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সার্বিক শেয়ার সূচক এমএসসিআই দশমিক সাত শতাংশ বেড়েছে, যা ১২ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। এক সপ্তাহে এ সূচক বেড়েছে সাত দশমিক চার শতাংশ, ২০১১ সালের ডিসেম্বরের পর যা সর্বোচ্চ উত্থান।

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, করোনার কারণে ইউরোজোনে অর্থনীতির যে ধাক্কা লেগেছে, তা কাটিয়ে উঠতে তারা ব্যাপকভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে। এক মাস আগের জরুরি ভিত্তিতে নেওয়া বন্ড ক্রয়ের কর্মসূচির আকার ৬০০ বিলিয়ন ইউরো বাড়িয়ে এক দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ইউরো করা হয়েছে। ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত চলবে এ কর্মসূচি। আগের পরিকল্পনার চেয়ে এ সময় ছয় মাস বেশি। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সুদের হার রেকর্ড সর্বনিন্মে নামিয়েছে।

গতকাল এশিয়ার পুঁজিবাজারের মধ্যে জাপানের নিক্কেই সূচক বেড়েছে দশমিক ৭৪ শতাংশ। হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক বেড়েছে এক দশমিক ৬৬ শতাংশ, সাংহাই সূচক বেড়েছে দশমিক ৪০ শতাংশ এবং ভারতের সেনসেক্স সূচক বেড়েছে দশমিক ৯০ শতাংশ। এছাড়া এ অঞ্চলের অন্য সূচকগুলোও ছিল ঊর্ধ্বমুখী ধারায়।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, কয়েকটি কারণে পুঁজিবাজারে চাঙা ভাব দেখা দিয়েছে। প্রথমত, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু না করায় এবং করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও হংকং ইস্যুতে উত্তেজনা উসকে না দিয়ে তা এড়িয়ে চলায় পুঁজিবাজারে প্রভাব পড়েছে।

দ্বিতীয়ত, চীনের অর্থনীতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা দেওয়ায় এবং এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাø শুরু হওয়ায় পুঁজিবাজার নিয়েও খানিক আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে দাঙ্গা প্রশমিত হয়ে আসায় পুঁজিবাজারে স্বস্তি ফিরেছে।

ইউরোপের পুঁজিবাজারের মধ্যে গতকাল লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক বেড়েছে প্রায় এক দশমিক ১৮ শতাংশ। জার্মানির ডিএএক্স সূচক বেড়েছে এক দশমিক ৮৪ শতাংশ। এছাড়া ফ্রান্সের সিএসসি৪০ সূচক বেড়েছ দুই দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং ফ্রান্সের এফটিএসই এমআইবি সূচক বেড়েছে দুই দশমিক ১৪ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে ইতালির আইবিইএক্স৩৫ সূচক বেড়েছে দুই দশমিক ৮০ শতাংশ।

মিঝুহো ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সতর্কভাবে চলার ফলে এর প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। তবে চীন-মার্কিন উত্তেজনা আবারও শুরু হতে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছে ব্যাংকটি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..