প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

৯ বছরে ২৯ হাজার সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৫০ হাজার

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সড়ক-মহাসড়কগুলো যেন হয়ে উঠেছে দুর্ঘটনার আতুরঘর। আর যানবাহনগুলো ঘাতক-দৈত্য। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে বাইরে বের হয়ে সুস্থ দেহে ঘরে ফিরে আসা দায়। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন কেউ না কেউ আহত হচ্ছে, কেউ বরণ করছে পঙ্গুত্ব, আবার কেউ হারাচ্ছে মূল্যবান জীবন। গত নয় বছরের পরিসংখ্যান রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতো। শুধু এই সময়ে প্রাণ ঝরেছে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ৯ বছর ধরে বাংলাদেশের সড়কে ঘটা দুর্ঘটনা, দুর্ঘটনায় আহত-নিহতের তথ্য সংগ্রহ করছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে তারা দুর্ঘটনার আদ্যোপান্ত সংগ্রহ করে প্রতিবছর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সংস্থাটির প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সড়কে ছোট-বড় ২৮ হাজার ৯৮৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৫০ হাজার ৪৮২ জন মানুষের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে ২০১৪ সালে। সে বছর ৮ হাজার ৫৮২ জন মানুষ মারা যান। সবচেয়ে কম মানুষ মারা গেছে ২০১৬ সালে ৪ হাজার ১৪৪ জন। গতবছর মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৯৮৯ জনের।

এছাড়া ২০১৮ সালে ৫ হাজার ৮৬০, ২০১৭ সালে ৫ হাজার ৬৪৫, ২০১৫ সালে ৫ হাজার ৩ জন, ২০১৩ সালে ৫ হাজার ১৭২ ও ২০১২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৫ হাজার ৮৬০ জন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে ৭৪ হাজার ৮৯২ জন।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৯ বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৮ হাজার ৯৮৪টি। আর একই সময়ে সড়কে দুর্ঘটনা বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশের বেশি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে পরিবারের বাধার পরও যাতায়াতের সুবিধার কথা চিন্তা করে মোটরসাইকেল কেনেন ব্যাংক কর্মকর্তা আরমান হোসাইন। জুলাইয়ে উত্তরার একটি সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।

জাগো নিউজকে আরমান বলেন, মোহাম্মদপুর থেকে উত্তরায় আসতে হয় প্রতিদিন। যাতায়াতে সুবিধার জন্য মোটরসাইকেল কিনি। কিন্তু সড়কে নেমে দেখি, সবাই বেপরোয়াভাবে চলে। গত জুলাইয়ে উল্টো দিক থেকে আসা একটি বাস ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। বিমানবন্দরের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। বাইকের স্পিড কম থাকায় খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। তবু এখন পরিবারের সদস্যরা খুবই চিন্তা করে। বাইক বিক্রি করেও দিতে বলেছে কেউ কেউ।সূত্র জাগো নিউজ।