বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

৯ মাস পর চট্টগ্রাম থেকে ফের আইপি ইস্যুর অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: ৯ মাস বন্ধ থাকার পর ফের চট্টগ্রাম থেকে নতুনভাবে আমদানিকারকদের অনুকূলে আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) সনদ ইস্যুর অনুমোদন দেওয়া শুরু হয়েছে, যা উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এতে আমদানিকারকদের ব্যবসা সহজলভ্য হবে।
উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দেশের প্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি পূরণ করতে হয় আমদানির মাধ্যমে। আর আমদানির জন্য লাগে আমদানি অনুমতিপত্র, যা আমদানি ও রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতরের অধীনে সব শাখা কার্যালয় থেকে সহজে মিলত। কিন্তু প্রায় ৯ মাস বন্ধ থাকায় স্থানীয় আমদানিকারকদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়।
গত রোববার থেকে উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক কার্যালয় আইপি অনুমোদন দেওয়া শুরু করে। এক পত্রে বলা হয়, উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্র, সমুদ্রবন্দর ও চট্টগ্রাম কার্যালয় থেকে চট্টগ্রাম জেলাধীন আমদানিকারকদের আবেদন বিবেচনা করে সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম থেকে আমদানি অনুমতিপত্র (আইপি) ইস্যুর নিমিত্ত উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ আইন, ২০১১-এর দ্বিতীয় অধ্যায়ের ধারা-৫ মোতাবেক পরিচালক, উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ উইং, খামারবাড়ী, ঢাকা কর্তৃক উপ-পরিচালক, উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্র, সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রামকে আমদানি অনুমতিপত্র (আইপি) ইস্যুর ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে। তবে গত ৯ ডিসেম্বর প্রধান কার্যালয় ছাড়া অন্যান্য শাখা কার্যালয় থেকে আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) অনুমোদন বন্ধ ঘোষণা করে দেয়। গত ৯ মাস বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন ঢাকা ছাড়া ৬৩ জেলার আমদানিকারকরা।
আমদানিকারকরা জানান, দেশে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ভোগ্যপণ্য, কৃষিপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল, মেশিনারি ও যন্ত্র্র্রাংশ, জ্বালানি তেল, গ্যাস, নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণ প্রভৃতি প্রায় ছয় হাজার ধরনের পণ্য আমদানি করা হয়। এসব আমদানির মাধ্যমে দেশের চাহিদা ও জোগান পূরণ করা হয়। আর আমদানি কার্যক্রমের চট্টগ্রামের আমদানিকারকরা দেশের অন্যান্য জেলায় তুলনায় তৎপর বেশি। কারণ দেশের প্রধান প্রধান শিল্পকারখানা, খাদ্য ও ভোগ্যপণের বড় বাজার চট্টগ্রামে অবস্থিত। পাশাপাশি দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরও চট্টগ্রামে। ফলে চট্টগ্রামের আমদানিকারকরা বিদেশ থেকে যে কোনো ধরনের পণ্য আমদানিতে এলসি খোলার আগে আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) অনুমোদন আমদানি ও রফতানি নিয়ন্ত্রকের চট্টগ্রাম কার্যালয় থেকে নিত। কিন্তু প্রধান কার্যালয়ের গত ৯ ডিসেম্বর এক নির্দেশনার ফলে ঢাকার অধিদফতর থেকে আইপি সংগ্রহ করতে হয়। পাশাপাশি একই আদেশে বলা হয়, মন্ত্রণালয় বা পোশাক কর্তৃপক্ষের সুপারিশ ছাড়া আমদানি ও রফতানি নিয়ন্ত্রক অধিদফতরের কোনো আঞ্চলিক দফতর থেকে কোনো প্রকার আমদানি পারমিট ইস্যু করা যাবে না।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন ধরনের পণ্যের আমদানিকারকরা জানান, দেশে ব্যবসা ব্যয় এমনিতেই সর্বোচ্চ বলে বিবেচিত। এছাড়া আমাদের বন্দরের পণ্য খালাসে অনেক সময় লাগে। এর মধ্যে নানা জটিলতার মাঝে ঢাকা থেকে আইপি সংগ্রহ করে ব্যাংকে আমদানি এলসি করার ক্ষেত্রে অনেক সময়ক্ষেপণ হতো, যা অগ্রহণযোগ্য। কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইচ্ছায় চট্টগ্রামের আমদানিকারক ক্ষতিগ্রস্ত করা হলো, তা দেরিতে হলেও সরকার বুঝতে পেরেছে। সব বিবেচনায় চট্টগ্রাম থেকে আবার আইপি ইস্যু করাটি একটি ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ।
এ বিষয়ে চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, দেশের সব অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের সমান সুযোগ তথা ব্যবসা সহজীকরণের লক্ষ্যে অনতিবিলম্বে আইপি ইস্যু কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন বাস্তবায়ন জরুরি। নতুনভাবে চট্টগ্রাম থেকে আমদানিকারকদের অনুকূলে আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) সনদ ইস্যুর অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনায় আসায় ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে। কারণ, আইপি ফরম পূরণে কোনো ভুল-ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা ফরম জমা দেওয়ার দুই থেকে চার দিন পর জানা যায় এবং সংশোধনের জন্য পুনরায় ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যেতে হয়, যা ঢাকা জেলার বাইরের একজন আমদানিকারক/ব্যবসায়ীর জন্য ব্যয় ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার ছিল।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..