সারা বাংলা

৯ মাস ব্যারিয়ারবিহীন গোয়ালন্দ লেভেল ক্রসিং, দুর্ঘটনার শঙ্কা

খন্দকার রবিউল ইসলাম, রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ রেলগেটে নেই ব্যারিয়ার। ঝুঁকি নিয়ে বাঁশ দিয়ে চলছে প্রতিবন্ধকতার কাজ। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ওপর দিয়ে গোয়ালন্দ ঘাট-পোড়াদহ রেললাইন রয়েছে। এ রুটে প্রতিদিন রাজশাহী, খুলনা, পরাদাহ, রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দগামী আটটি ট্রেন চলাচল করে। প্রতিদিন এই ব্যস্ত রেলগেট পার হয় ১০-১২ হাজার যানবাহন। এ কারণে এ রেলগেটটি অত্যন্ত ব্যস্ততম। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই রেলগেটে স্থায়ী কোনো ব্যারিয়ার নেই।

ব্যস্ততম এ রেলগেটে রেলওয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত গেটকিপার আছেন তিনজন। তারা জনসাধারণের নিরাপত্তা দিতে ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন। এক্ষেত্রে তারা একপাশে বাঁশের অস্থায়ী ব্যারিয়ার ব্যবহার করছেন। ট্রেন আসার সংকেত পেলে দায়িত্বরত গেটম্যানরা বাঁশ কাঁধে করে এনে মহাসড়কের একপাশে ব্যারিয়ার হিসেবে ফেলে রাখেন। গত ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ৯ মাস ধরে চলছে এ অবস্থা। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, ট্রেন আসার সংকেত পেলে ওই গেটে দায়িত্বরত তিন গেটকিপার একটি বাঁশ কাঁধে করে এনে গেটের একপাশে প্রতিবন্ধক হিসেবে ফেলে রাখেন। অপর পাশে লাল-নীল রঙের পতাকা হাতে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন এক গেটম্যান। অনেক সময় দ্রুত গতির যানবাহনগুলো বাঁশের তোয়াক্কা না করে রেললাইনের কাছে গিয়ে দাঁড়ায়।

কখনও দেখা যায়, ট্রেন একটু দূরে থাকায় গেটম্যানকে তোয়াক্কা না করে কোনো কোনো যানবাহন গেট পার হয়ে চলে যায়। এ অবস্থায় হঠাৎ কোনো যানবাহনের ইঞ্জিন লাইনের ওপর বন্ধ হয়ে গেলে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

গেটকিপার (গেটম্যান) সফিকুল ইসলাম জানান, গত ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে ব্যারিয়ার দুটি নষ্ট হয়ে যায়। প্রথমে মৌখিক পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি উপসহকারী প্রকৌশলীকে (কার্য) লিখিতভাবে জানানো হলে তিনি ২৮ ফেব্রুয়ারি অভিযোগটি গ্রহণ করেন। কিন্তু ৯ মাস অতিবাহিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে লাল ও সবুজ পতাকা নিয়ে ব্যারিয়ারের কাজ করতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, কুষ্টিয়া থেকে গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত ৩৮টি রেলগেট ও গুন্টিঘর নতুনভাবে নির্মাণ করার জন্য রেলওয়ের পক্ষ থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ দেওয়া হয় একটি ঠিকাদারি প্রকিষ্ঠানকে। এর মধ্যে গোয়ালন্দে আছে পাঁচটি রেলগেট ও গুন্টিঘর। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় প্রতিটি রেলগেট ও গুন্টিঘরের কাজ আংশিক করে ফেলে রেখেছে। গোয়ালন্দ গুন্টিঘরটি নির্মাণ করা হলেও তাতে নেই বাথরুম ও নলকূপ, যার কারণে তারা সেটি ব্যবহার করতে পারছেন না।

জানা গেছে, মেসার্স মাহবুব অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গোয়ালন্দের ওই গেটসহ রাজবাড়ী জেলার রেলগেটগুলোর মেরামত ও নতুন গেট স্থাপনের দায়িত্ব পেয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সালাম নামে রাজবাড়ীর এক ঠিকাদার ওই কাজগুলোর সাব-কন্ট্রাক্ট নিয়েছেন। কিন্তু তিনি এ গেটটির কাজ কিছুটা করেই ফেলে রেখেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১১টায় খুলনা থেকে দৌলতদিয়াগামী নকশিকাঁথা এক্সপ্রেস মেইল ট্রেনটি এ গেট পার হচ্ছিল। এ সময় মিতুল কুমার সরকার ও সোহেল রানা নামে দুই গেটম্যান একটি বাঁশ দিয়ে মহাসড়কের গাড়ি আটকে দেন। মেইল ট্রেনটি গেট পার হয়ে যাওয়ার পর আবার ওই বাঁশটি গেটম্যান সড়কের বাইরে রেখে দেন। এ সময় শরিফুল নামে অপর গেটম্যান লাল-সবুজ পতাকা হাতে নিয়ে গেটের অপর প্রান্তে সড়কের মাঝখানে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন।

স্থানীয় শহিদুল ইসলাম জানান, এমনিতেই গোয়ালন্দ রেলগেট এলাকাটি দুর্ঘটনাপ্রবণ। এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এ রকম একটি ব্যস্ত রেলগেটে দীর্ঘদিন ব্যারিয়ার না থাকা দুঃখজনক। দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ী ব্যারিয়ার নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে রাজবাড়ীর রেলওয়ে কর্মকর্তা (আইডাব্লিউ) হাফিজুর রহমান ও এইএন আবু বক্কার সিদ্দিক জানান, গেট মেরামতের কাজ চলমান আছে। এলাকার গেটের কাজগুলো সম্পন্ন করার কথা ঢাকার মেসার্স মাহবুব অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। তবে ওই ঠিকাদার স্থানীয় আবদুস সালাম নামে একজন ঠিকাদারকে দায়িত্ব দিয়েছে কাজগুলো সমাধানের জন্য। আশা করছি দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..