শেয়ার বিজ ডেস্ক : ইসরায়েলি নৌবাহিনীর অবৈধ অভিযানে আটক গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অধিকারকর্মীরা অনির্দিষ্টকালের অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি টু ব্রেক দ্য সিজ অন গাজা। বিবৃতিতে তারা ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের মন্তব্যেরও তীব্র নিন্দা জানান। সম্প্র্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটক কর্মীদের মুখোমুখি হয়ে বেন-গভির তাদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে মন্তব্য করেন। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের। এদিকে গাজার উদ্দেশে রওনা হয়েছে আরও ১১ জাহাজ।
কমিটির পক্ষ থেকে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গণহত্যার দায়ীদের কাছ থেকে এর চেয়ে আলাদা কিছু প্রত্যাশা করার নেই। তারা তাদের মন্ত্রীকে পাঠিয়েছেন, যিনি দেহরক্ষীদের নিরাপত্তা বলয়ে থেকে বিশ্বজুড়ে ৫০টি দেশের শান্তিকামী কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে উদ্ধত আচরণ করছেন।’
সংগঠনটি আরও জানায়, আটক কর্মীরা অহিংস উপায়ে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের অংশ হিসেবে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা আন্তর্জাতিক আইন অমান্য না করে শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উপায়ে গাজার ওপর আরোপিত ইসরায়েলি অন্যায্য অবরোধ ভাঙতে মানবিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
ইসরাইলি অবরোধ ভাঙতে গাজা অভিমুখে নতুন করে রওনা হয়েছে আরও ১১টি জাহাজ। আন্তর্জাতিক সংস্থা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বহরটিতে প্রায় ১০০ জন মানবাধিকারকর্মী ও যাত্রী রয়েছেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
এক বিবৃতিতে এফএফসি জানিয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইতালীয় ও ফরাসি পতাকা বাহিনী জাহাজ ইতালির অটরান্টো থেকে যাত্রা শুরু করে। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর ‘কনসায়েন্স’ নামে আরও একটি জাহাজ এর সাথে যোগ দেয় এবং ‘থাউজন্ড ম্যাডলিনস টু গাজা’ নামে আরও ৮টি জাহাজের একটি বহর খুব শিগগিরই যোগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর ১১টি জাহাজের বহর একসঙ্গে গাজা অভিমুখে যাত্রা করবে।
এর আগে গত মাসের শুরুর দিকে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নামে একটি নৌবহর গাজার উদ্দেশে রওনা হয়। তবে ইসরাইলি নৌবাহিনী এই বহরের ৪৪টি জাহাজের পাশাপাশি সেগুলোতে থাকা ৫০০ জনেরও বেশি কর্মীকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে গাজাগামী নৌবহরে ইসরায়েলি বাধার প্রতিবাদে ইউরোপে সড়ক অবরোধ-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী
ত্রাণ নিয়ে গাজা অভিমুখী নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলাতে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ও চার শতাধিক অংশগ্রহণকারীকে আটকের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ইউরোপ। বৃহস্পতিবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করার পাশাপাশি দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ ভাঙচুর করেন।
এদিনে স্পেনের বিক্ষোভকারীরা বার্সেলোনার বিভিন্ন দোকান ও রেস্তোরাঁর জানালা ভাঙচুর করেন ও ইসরায়েল বিরোধী সেøাগান লিখে দেন।
ইতালিতে শিক্ষার্থীরা মিলানের স্টাতালে ও রোমের লা সাপিয়েঞ্জাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় দখল করে বিক্ষোভ করেন। বলোনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে গাড়ির টায়ার ফেলে পথ অবরোধ করা হয়। তুরিনে শত শত মানুষ শহরের রোড অবরোধ করে রাখেন।
অন্যদিকে ইতালির রোমে চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্টসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা একটি ফ্ল্যাশ মব আয়োজন করেন। তারা টর্চলাইট ও মোবাইলের আলো জ্বেলে গাজায় নিহত এক হাজার ৬৭৭ জন স্বাস্থ্যকর্মীর নাম পড়ে শোনান। এছাড়া গাজামুখী ত্রাণবাহী নৌবহরের সমর্থনে ইতালির ট্রেড ইউনিয়নগুলো সারাদেশে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে মিছিল বা সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী এসব বিক্ষোভের সমালোচনা করেছেন। সেই সঙ্গে সুমুদ ফ্লোটিলার সমালোচনা করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি
এছাড়া আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস, জার্মানির রাজধানী বার্লিন ও সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় হাজারও বিক্ষোভকারী সড়কে নেমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাছাড়া আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আয়ার্স, মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি ও পাকিস্তানের করাচিতেও বিক্ষোভ হয়েছে।
এদিকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে জড়ো হন সাধারণ জনগণ। সেসময় তারা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ‘ইসরায়েল গাজাকে নয়, মানবতাকেই হত্যা করছে। নীরব থেকো না, বসে থেকো না, উঠে দাঁড়াও- ইত্যাদি সেøাগান দিতে থাকেন।
