প্রতিনিধি, গাজীপুর : গাজীপুর জেলা পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বহুমাত্রিক বিতর্ক, যেখানে একদিকে বদলিকৃত কর্মকর্তা আশরাফ হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগ। অন্যদিকে তার পুনর্বহাল চেষ্টাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে আশরাফ হোসেনকে গাজীপুর জেলা পরিষদ থেকে অন্যত্র বদলি করা হয় এবং তার শূন্য পদে বিধি অনুসারে নতুন একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। যিনি বর্তমানে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে বদলির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আশরাফ হোসেন হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন এবং পূর্বের পদে পুনর্বহালসহ বেতন-ভাতা উত্তোলনের লক্ষ্যে গাজীপুর জেলা পরিষদে চিঠি- বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ ও তদবির চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রশাসনিক অঙ্গনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- একই পদে ইতোমধ্যে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও পূর্বের কর্মকর্তা কীভাবে পুনরায় ওই পদে বহাল হতে তদবির চালান।
জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন সূত্রের দাবি, আশরাফ হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জমা হতে থাকে এবং এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তাকে বদলি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। এরমধ্যে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় প্রায় ৩২ বিঘা জমি, গাজীপুর শহরে একটি আটতলা ভবন ও দুটি পাঁচতলা ভবন, রাজধানীর উত্তরা এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট এবং পরিবারের সদস্যদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার ব্যয়ভার বহনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। যদিও এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।
জেলা পরিষদের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের মতে, একটি পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিদ্যমান থাকা অবস্থায় একই পদে পুনর্বহালের দাবি প্রতিষ্ঠানটির কার্যকর ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে মো. আশরাফ হোসেনের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি মনে করেন, বদলির সিদ্ধান্তটি ন্যায়সংগত হয়নি।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, গাজীপুর জেলা পরিষদে চলমান এই ইস্যু এখন প্রশাসনিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও সত্যতা যাচাই, অন্যদিকে আদালতের রায়ের অপেক্ষা-সব মিলিয়ে বিষয়টির সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ সমাধান এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনআস্থা পুনরুদ্ধারে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
