Print Date & Time : 15 May 2026 Friday 1:55 am

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাত সদস্যের কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক  : জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের এনএসসি (ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট) সিস্টেমে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত তিনটি ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানা গেছে।

একটি প্রতারক চক্র বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে সঞ্চয়পত্র কিনে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের এনএসসি সিস্টেম জালিয়াতি করে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। একই চক্র পরবর্তী সময়ে আরও ৫০ লাখ টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করলে কর্তৃপক্ষ তা সফলভাবে আটকে দেয়।

প্রাথমিক তদন্তে দৃঢ়ভাবে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, এ জালিয়াতি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমের নিরাপত্তা ভঙ্গ সংঘটিত হয়েছে, বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে কর্মকর্তাদের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেই প্রতারণাটি ঘটানো হয়েছে।

অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন, পরিকল্পনা ও টিডিএম) মো. হাসানুল মতিনকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটিতে আরও রয়েছেনÑজাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. রওশন আরা বেগম, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউল আবেদীন, যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ রাশেদুল আমীন, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক, সিআইডির একজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব।

জানা গেছে, কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করে শাস্তির সুপারিশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি রোধে করণীয়ও প্রস্তাব করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয় থেকে গত বৃহস্পতিবার ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কেনেন এক ব্যক্তি। তার ব্যাংক হিসাবটি আছে অগ্রণী ব্যাংকের জাতীয় প্রেস ক্লাব শাখায়। চার দিনের মাথায় গত সোমবার এই সঞ্চয়পত্র ভাঙানো হয় এবং টাকা নেয়া হয় এনআরবিসি ব্যাংকের দিনাজপুর উপশাখার অন্য এক ব্যক্তির হিসাবে। ওই টাকা জমা হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যে ব্যাংকটির রাজধানীর শ্যামলী শাখা থেকে তুলে নেয়া হয়।

একই প্রক্রিয়ায় চক্রটি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ৩০ লাখ ও এনআরবি ব্যাংকের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ভাঙিয়ে টাকা তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এলে তা আটকে দেয়া হয়। ঘটনার পরপরই মতিঝিল অফিসের তিন কর্মকর্তা, যাদের পাসওয়ার্ড অ্যাক্সেস ছিল, তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সঞ্চয়পত্র লেনদেনের জন্য ব্যবহƒত তাদের কম্পিউটারও জব্দ করা হয়েছে।

সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ‘যাদের হিসাবে অর্থ গেছে এবং যারা জালিয়াতিতে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে মামলা করা হবে। সঞ্চয়পত্রের সিস্টেম যারা পরিচালনা করেন, তাদের কারও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এই জালিয়াতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে। এ নিয়ে মতিঝিল থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।’