শেয়ার বিজ ডেস্ক : অস্ট্রিয়ার গ্রাজ শহরে এলকে এইচ-ইউনিক্লিনিকাম হাসপাতালে জন্ম হয় ডরিস গ্রুনওয়াল্ড ও জেসিকা বমগার্টনারের। তবে জন্মলগ্নেই হাসপাতালের অসাবধানতায় সদ্যোজাত দুই শিশুকে অদলবদল করে তুলে দেয়াক হয় অন্য পরিবারের হাতে।
শৈশবের দুরন্তপনা থেকে যৌবনের প্রারম্ভ, জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে আসার পর হঠাৎ এক অপ্রত্যাশিত সত্যের মুখোমুখি হতে হয় দুই অস্ট্রিয়ান নারীর।
সালটা ১৯৯০, অক্টোবর মাস। অস্ট্রিয়ার গ্রাজ শহরে এলকেএইচ-ইউনিক্লিনিকাম হাসপাতালে জন্ম হয় ডরিস গ্রুনওয়াল্ড ও জেসিকা বমগার্টনারের। দুজনেই ছিলেন অপরিণত শিশু। তবে জন্মলগ্নেই হাসপাতালের অসাবধানতায় সদ্যোজাত দুই শিশুকে অদলবদল করে তুলে দেয়া হয় অন্য পরিবারের হাতে।
ডরিসকে নিয়ে যান এভলিন ও জোসেফ গ্রুনওয়াল্ড দম্পতি, আর জেসিকা বড় হতে থাকেন হার্বার্ট ও মনিকা ডেরলার দম্পতির কাছে। দুই পরিবারই জানতো না, তাদের কোলে যে সন্তান বড় হচ্ছে, সে আসলে তাদের প্রকৃত সন্তান নয়।
তবে ৩৫ বছর পর অবশেষে সেই দুই নারী, ডরিস গ্রুনওয়াল্ড ও জেসিক বমগার্টনার একে অপরের দেখা পেয়েছেন।
তাদের সত্যও উন্মোচন হয় অনেকটা নাটকীয়ভাবে। ২০১২ সালে ডরিস গ্রুনওয়াল্ড রক্তদান করতে গিয়ে জানতে পারেন, তার রক্তের গ্রুপ তার জন্মদাতা মা এভলিন বা বাবা জোসেফের সঙ্গে মেলে না। এখানেই প্রথম সন্দেহের বীজ বোনা হয়। তখনই তিনি উপলব্ধি করেন যে তিনি তার বাবা-মায়ের প্রকৃত সন্তান নন।
২০১৬ সালে অস্ট্রিয়ান পাবলিক ব্রডকাস্টার ওআরএফ এই ঘটনা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও, তখন পর্যন্ত অন্য পরিবারটির খোঁজ মেলেনি।
অন্যদিকে, জেসিকার জীবনের মোড় আসে যখন তিনি গর্ভবতী হন। চিকিৎসকের কাছে গিয়ে রক্ত পরীক্ষার পর তিনি জানতে পারেন, তার রক্তের গ্রুপও তার বাবা-মায়ের সঙ্গে মিলছে না। এরপর এক চিকিৎসকই তাকে জানান, জন্মকালে শিশু বদলের সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা।
জেসিকা সবকিছু জানার পর ফেসবুকের মাধ্যমে ডরিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর শুরু হয় সেই কাঙ্ক্ষিত সাক্ষাতের পালা। জেসিকা ওআরএফের ‘থেমা টিভি’ অনুষ্ঠানে বলেন, ডরিসের সঙ্গে দেখা হওয়াটা যেন কোনো হারিয়ে যাওয়া বোনের সঙ্গে দেখা হওয়ার মতোই ছিলো। ডরিসও আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই একে অপরের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলাম। এটা এক অনির্বচনীয় ভালো লাগার অনুভূতি ছিল।’
সম্প্রতি, ওআরএফ টিভির একটি দল ক্যামেরাবন্দী করেছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দুই পরিবার, গ্রুনওয়াল্ড ও ডেরলার, অবশেষে পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। মিসেস ডেরলার জানান, খবরটি শোনার পর তার প্রথম অনুভূতি ছিল মানসিক অস্থিরতা। কিন্তু পরক্ষণেই তিনি উপলব্ধি করেন, ‘আমার প্রথম ভাবনা ছিলো, জেসিকা সব সময় আমাদের সন্তানই থাকবে। আর যখন ডরিসকে দেখলাম, ভাবলাম সে কী মিষ্টি একটি মেয়ে।’
এভলিন গ্রুনওয়াল্ডের প্রতিক্রিয়া ছিল আরো সহজ-সরল। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে আমার পরিবার আরো বড় হয়েছে এবং অবশেষে আমি একটা নিশ্চয়তা পেয়েছি।” তার স্বামীর কথায়ও ফুটে ওঠে স্বস্তির ছাপ, “এটা একটা স্বস্তির ব্যাপার ছিলো।”
এদিকে, এতগুলো বছর পর এই ভুলের জন্য গ্রাজের এলকেএইচ ইউনিক্লিনিকামের অপারেশনস ম্যানেজার গেভার্ড ফালজবার্গার গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “সেই সময় এই ভুলটি হওয়ার জন্য আমরা গভীরভাবে অনুতপ্ত।” হাসপাতালের পক্ষ থেকে তিনি উভয় পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েও গেছে পরিবারগুলো। ২০১৬ সালে গ্রুনওয়াল্ড পরিবার একজন আইনজীবীর পরামর্শে ডরিসের উত্তরাধিকারের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য তাকে আইনত দত্তক নেন। একই সাথে হাসপাতাল থেকে ক্ষতিপূরণও পান তারা। বর্তমানে ডেরলার পরিবারও জেসিকার দত্তক ও ক্ষতিপূরণের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।
এস এস
প্রিন্ট করুন








Discussion about this post