শেয়ার বিজ ডেস্ক : আফ্রিকার বিমান চলাচল খাতে বিপ্লব ঘটাতে এবং মহাদেশটির প্রধান ট্রানজিট হাব হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে ইথিওপিয়ায় শুরু হলো আফ্রিকার সর্ববৃহৎ বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বিশোফতু শহরে বিশাল এই কর্মযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রায় ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (সাড়ে ১২০০ কোটি ডলার) ব্যয়ে নির্মিতব্য এই প্রকল্পটিকে আফ্রিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এভিয়েশন অবকাঠামো হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০৩০ সাল নাগাদ বিমানবন্দরটি পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করলে এটি বছরে প্রায় ১১ কোটি (১১০ মিলিয়ন) যাত্রী হ্যান্ডেল করতে পারবে। অত্যাধুনিক এই মেগা বিমানবন্দরে চারটি রানওয়ে এবং একসঙ্গে ২৭০টি বিমান পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।
বর্তমানে দেশটির প্রধান বিমানবন্দর ‘বোলে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট’-এর বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ কোটি ৫০ লাখ। নতুন বিমানবন্দরটির সক্ষমতা হবে বর্তমানের চার গুণেরও বেশি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান বিমানবন্দরটি আগামী তিন বছরের মধ্যে তার সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতায় বা স্যাচুরেশন পয়েন্টে পৌঁছে যাবে, তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ জানান, এই ‘মাল্টি-এয়ারপোর্ট স্ট্র্যাটেজি’ আফ্রিকার প্রধান বিমান পরিবহন প্রবেশদ্বার হিসেবে ইথিওপিয়ার অবস্থানকে সুসংহত করবে। এটি ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আফ্রিকা মহাদেশের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও পর্যটন খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
বিমানবন্দরটিকে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করতে একটি বহু-লেন বিশিষ্ট মহাসড়ক এবং ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ হাই-স্পিড রেললাইন নির্মাণ করা হবে, যা ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার গতিতে চলবে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন। বিশাল এই প্রকল্পের অর্থায়নে যুক্ত রয়েছে দেশটির জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স, আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
তবে দেশটির দুই প্রধান জনবহুল অঞ্চল আমহারা এবং ওরোমিয়াতে চলমান সশস্ত্র সংঘাতের মধ্যেই সরকার বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্যে এই অবকাঠামো গড়ে তুলছে। উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত বিমানবন্দর এলাকা বিশোফতু ওরোমিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি সত্ত্বেও ইথিওপিয়া তাদের এভিয়েশন খাতকে ঢেলে সাজাতে এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
