নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে বেতন-ভাতা পরিশোধ না করার অভিযোগ তুলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শ্রমিকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের গুলশান নিকেতনের প্রধা কার্যালয়ের সামনে শ্রমিকরা অবস্থান করেন। এ সময় কৌশলে
ওই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের প্রতিনিধি অভিযোগ করে বলেন, গত ১০ মে বুধবার ও পরদিন বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর নতুন কো-অর্ডিনেটর ও নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে আলোচনার কথা বলে পুলিশ প্রশাসনের সামনে জানিয়েছিল যে, শনিবার বা রোববারের মধ্যে তাদের সঙ্গে বসে পাওনা টাকার প্রথম কিস্তি পরিশোধ করবেন এবং পরবর্তী দুই কিস্তির টাকা দেওয়ার তারিখ জানানো হবে। তিনি বলেন, ‘তাদের কথা অনুযায়ী প্রশাসন আমাদের অনুরোধ করে বলেছিল, যেহেতু তারা বসবে বলেছে, তাই এখানে অবস্থান না করে আমরা যেন সরে যাই। আমরা সম্মান দেখিয়ে সরে আসি।’
তিনি আরও জানান, পরে গত সপ্তাহের শনিবার ও রোববার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা জানায়, ওই পক্ষ থেকে কোনো ধরনের নিশ্চিত বার্তা পাওয়া যায়নি এবং শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করার জন্য এমন কথা বলা হয়েছিল বলে তাদের জানানো হয়।
ওই শ্রমিক প্রতিনিধি বলেন, ‘এরপর আমরা আবার অবস্থান কর্মসূচি নিই। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি বা আলোচনায় বসেনি। পেমেন্ট কীভাবে দেবে, সেটাও জানায়নি।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, এমনকি মামলা দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।’
অবস্থান কর্মসূচির সময় স্থানীয় একটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন সংগ্রহ করেন বলেও তিনি জানান।
এর আগে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান শেয়ার বিজকে বলেছিলেন, আমাদের বলা হয়েছিল, আমরা যেন কোনো মিডিয়া বা বাইরে কোথাও না যাই। আলিফের ক্ষতি না করলে আমাদের টাকা পরিশোধ করা হবে। কিন্তু যেহেতু এখন তারা টাকা দিচ্ছে না, তাই বাধ্য হয়েই আমাদের কঠোর অবস্থানে যেতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি আগে বিলকিস টাওয়ারে হেড অফিস পরিচালনা করত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে অফিস স্থানান্তর করা হয় নিকেতনের হাউস নম্বর ৪৭, রোড নম্বর ১৪, ব্লক জি এলাকায়। গত বছর থেকেই বেতন নিয়ে আমাদের টালবাহানা শুরু হয়। তিন-চার মাস পরপর একবার করে বেতন দেওয়া হতো। এভাবে চলতে চলতে আমাদের ৯ থেকে ১২ মাসের বেতন বকেয়া পড়ে। কিছু কর্মী যারা কাছের ছিলেন, তাদের বেতন নিয়মিত দেওয়া হতো। বেতন না পাওয়ায় অনেকেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছে, আবার কেউ কেউ ভরসা করে থেকেছে যে হয়তো প্রতিষ্ঠান বিষয়টি সমাধান করবে।
তিনি অভিযোগ করেন, নতুন অফিসে স্থানান্তরের পর প্রথম তিন মাসে ৩০ থেকে ৪০ জনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বেতন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সিইও তুহিন রেজার সঙ্গে বৈঠকে বসলে তিনি আমাদের জানান, অ্যাকাউন্টসের হেড বিজয় সরকারের সঙ্গে বসে সবকিছু ঠিক করে তোমাদের টাকা আমরা বিকাশে ও ব্যাংকে দিয়ে দেব। তোমাদের আর কষ্ট করে অফিসে আসতে হবে না। এরপর মার্চ থেকে মে পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ বার অফিসে গিয়েছি, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বসে থেকেছি, কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান পাইনি। ১০ মে সর্বশেষ নির্ধারিত তারিখ পেরিয়ে যাওয়ার পরও বেতন না পেয়ে ২২ জন এজিএম, সিনিয়র অফিসার ও মার্কেটিং বিভাগের কর্মীরা অফিসে একসঙ্গে অবস্থান নিই, কিন্তু সেই সময়েও টাকা দেওয়া হয়নি। পরে রাত ১০টায় জানানো হয় আরও দুই দিন সময় লাগবে।
