মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান টানা ষষ্ঠ দিনে পৌঁছেছে। চলমান এই সংঘাত ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, চলমান অভিযানে তারা ধীরে ধীরে ইরানের আকাশসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে। একইসঙ্গে সমুদ্র ও স্থলপথেও ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পর্যন্ত ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। এই অভিযানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রশাসনিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ তেহরানের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের লাইভ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলমান সংঘাতে ইরানে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে এক হাজার ছাড়িয়েছে। বিভিন্ন শহর ও সামরিক স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলার ফলে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বুধবার (৪ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে ইরানের ২০টির বেশি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের ৪৯ জন শীর্ষ সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এছাড়া দুই হাজারেরও বেশি সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক অবকাঠামো দুর্বল করে দেওয়া।
হোয়াইট হাউসের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এখন ইরানের আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
ক্যারোলিন লেভিট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের “অসাধারণ সামরিক অভিযান” চালিয়ে যাচ্ছে এবং এর ফলে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
হোয়াইট হাউস আরও দাবি করেছে, চলমান অভিযানের ফলে ইরানের শাসনব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং সামরিক কাঠামো মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা অত্যন্ত ভালো অবস্থানে রয়েছে। সামরিক অভিযানে তারা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে, কারণ এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে সর্বশেষ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কুর্দি যোদ্ধারা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুর্দি যোদ্ধারা ইতোমধ্যে ইরানের সীমান্ত অতিক্রম করেছে এবং তারা স্থল অভিযান শুরু করেছে। তাদের লক্ষ্য ইরানের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করা।
মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত দ্রুত শেষ না হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
যদি যুদ্ধ আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে, তাহলে এর প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
বিশ্বের অনেক দেশ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই সংঘাত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। আকাশ, স্থল ও সমুদ্র—সব দিক থেকেই সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক সমাধান দ্রুত না এলে এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। আর তা হলে মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্ব নতুন এক বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিবেদন
প্রিন্ট করুন









Discussion about this post