Print Date & Time : 3 May 2026 Sunday 5:02 pm

ইরানের ইসফাহানে মার্কিন হামলা, ব্যবহৃত হয়েছে বাঙ্কার-ব্লাস্টার বোমা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহানে একটি বড় গোলাবারুদের ডিপো লক্ষ্য করে বাঙ্কার-ব্লাস্টার বোমা ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় প্রায় দুই হাজার পাউন্ড ওজনের শক্তিশালী বাঙ্কারভেদী বোমা ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন এক কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ওই কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইকোনমিক টাইমসও।

মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, হামলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শক্তিশালী বাঙ্কারভেদী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসে সক্ষম।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে রাতের আকাশে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ওই ভিডিওতে ইসফাহানে চালানো হামলার দৃশ্যই ফুটে উঠেছে।

ইসফাহান ইরানের অন্যতম প্রধান শহর, যা রাজধানী তেহরানের দক্ষিণে জায়ানদেহ নদীর তীরে অবস্থিত। শহরটি দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি, সামরিক অবকাঠামো এবং জাতীয় প্রতীকের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এখানেই অবস্থিত নিউক্লিয়ার ফুয়েল রিসার্চ অ্যান্ড প্রোডাকশন সেন্টার, যা ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি, ইরান এয়ারক্রাফট ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানিও এই অঞ্চলে অবস্থিত, যারা মহাকাশ গবেষণা, হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে কাজ করে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইসফাহানের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ শহরটির ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে সরিয়ে নিতে পারে।

বাঙ্কার-ব্লাস্টার বোমা এমন একটি বিশেষ ধরনের অস্ত্র, যা বিস্ফোরণের আগে শক্ত লক্ষ্যবস্তু ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম। সাধারণত ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা, শক্তিশালী বাঙ্কার এবং পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংসে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

এই শ্রেণির শক্তিশালী বোমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর (এমওপি)’—যার ওজন প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড। বোয়িং নির্মিত এই বোমাটি উন্নত জিপিএস প্রযুক্তিনির্ভর এবং শক্ত ইস্পাত আবরণযুক্ত, যা কংক্রিট ও পাথরের বহুস্তর ভেদ করে গভীরে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম।

তবে ইসফাহান অভিযানে তুলনামূলক ছোট আকারের বাঙ্কার-ব্লাস্টার বোমা ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর লক্ষ্য ছিল ভূগর্ভস্থ সামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো অকার্যকর করে দেওয়া।

ঘটনাটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এ হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।