শেয়ার বিজ ডেস্ক : ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর-যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরেই মধ্যপ্রাচ্যে আকাশপথে তৈরি হয়েছে চরম অস্থিরতা। ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাত্মক সংঘাতের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করেছে লুফথানসা, এয়ার ফ্রান্স এবং ডাচ কেএলএমসহ শীর্ষ আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো।
এয়ার ফ্রান্স এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে শুক্রবার ও শনিবার প্যারিস থেকে দুবাইগামী সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং পরবর্তী নিদের্শ না দেয়া পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বিমান পরিষেবা স্থগিত থাকবে।
ডাচ কেএলএম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা বর্তমানে বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ, ইরান, ইরাক এবং ইসরায়েলের আকাশসীমা এড়িয়ে চলছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দুবাই, সৌদি আরবের রিয়াদ এবং দাম্মাম এবং তেল আবিবের সব ফ্লাইটও বাতিল করেছে।
লুফথানসা এজি জানিয়েছে, তারা আগামী ২৮ মার্চ পর্যন্ত তেহরানের ফ্লাইট বাতিল করেছে এবং চলতি মাসের বাকি দিনগুলোতে দিনের বেলায় তেল-আবিব এবং জর্ডানের আম্মানে ফ্লাইট চলাচল করবে।
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়েবসাইট এবং ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ঋষরমযঃৎধফধৎ২৪-এর তথ্য অনুসারে, লুক্সেমবার্গের পতাকাবাহী বিমান সংস্থা লুক্সা এয়ার, যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এবং কম খরচের ডাচ বিমান সংস্থা ট্রান্সভিয়ার দুবাইগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
একই ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করে ইউনাইটেড এয়ারওয়েস এবং এয়ার কানাডাও ইসরায়েলে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠায় বিমান সংস্থাগুলো বিমা ঝুঁকি এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিমান বহনকারী (এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার) রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম এবং বেশ কিছু গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ ইরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে এবং আগামী কিছুদিনের মধ্যে ইরানের উপকূলের আশপাশে এই যুদ্ধজাহাজের বহর অবস্থান নেবে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ, রয়টার্স
প্রিন্ট করুন







Discussion about this post