Print Date & Time : 14 January 2026 Wednesday 3:59 am

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বিপর্যয় ডেকে আনবে: কাতার

 শেয়ার বিজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও তার বাইরেও মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেছে কাতার। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন হামলার হুমকি দেওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার এ উদ্বেগ প্রকাশ করে দোহা। খবর এএফপি।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি রাজধানী দোহায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চল ও এর বাইরেও ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে।

তিনি বলেন, আমরা জানি, যে কোনো ধরনের উত্তেজনা এই অঞ্চল ও এর বাইরেও বিপর্যয়কর ফল বয়ে আনবে। সে কারণেই আমরা যতটা সম্ভব এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে চাই।

কাতারের এই বক্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর পদক্ষেপের জেরে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে ইরানে বিক্ষোভ-সহিংসতায় প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। ইরানি এক কর্মকর্তা গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা কর্মীসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। দুই সপ্তাহ ধরে চলা অস্থিরতায় হতাহতের বিষয়ে প্রথমবারের মতো ইরানি কোনো কর্মকর্তা নিশ্চিত করলেন। খবর রয়টার্সের।

রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তাকর্মী উভয়ের মৃত্যুর পেছনেই সন্ত্রাসীরা জড়িত। তবে কারা নিহত হয়েছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভের ক্ষেত্রে দ্বৈত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের চেষ্টা করেছে। তারা অর্থনৈতিক সমস্যার প্রতিবাদকে বৈধ বলে অভিহিত করেছে এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে দেশজুড়ে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে ইরান এবং বলেছে যে, অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা এসবের সঙ্গে জড়িত। এদিকে একটি অধিকার গোষ্ঠী জানিয়েছে, শত শত নিহত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বলেছে যে, বিক্ষোভ থেকে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের ওপর চালানো যেতে পারে এমন কয়েকটি সামরিক ও গোয়েন্দা পদক্ষেপের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রে বিবিসির অংশীদার সিবিএস নিউজকে এমন তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তা।

সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য মার্কিন পদক্ষেপের ক্ষেত্রে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এখনো একটি বিকল্প হিসেবে রয়েছে। তবে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা সাইবার অভিযান এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির জন্য প্রচারণার বিষয়েও প্রস্তাব দিয়েছেন।