নিজস্ব প্রতিবেদক : ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। একই সঙ্গে সবকটি মূল্যসূচক উল্লেখযোগ্যভাবে নিম্নমুখী হয়েছে এবং কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। বাজারজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা লক্ষ্য করা গেছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই এই প্রথম পুঁজিবাজারে ধস নেমেছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন গভর্নরের ইতিবাচক বার্তায় পুঁজিবাজারে বড় উত্থান হয়েছিল। আগের কয়েক কার্যদিবসেও পুঁজিবাজার উত্থানের ধারাবাহিকতায় ছিল। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই এদিন পুঁজিবাজারে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলাকে কেন্দ্র করে এই বড় পতন দেখা গেল।
গতকাল রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর রোববার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হতেই আতঙ্কে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দেন। এতে লেনদেনের শুরুতেই ডিএসইর প্রধান সূচক ২২৩ পয়েন্ট কমে যায়। পরে কিছু ক্রেতা সক্রিয় হলে সূচকের পতন প্রবণতা কমে। অবশ্য ক্রেতার থেকে বিক্রেতার চাপ বেশি থাকায় সূচকের বড় পতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র ৩০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৫৩টির। আর ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতন হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৩৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৬১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৫২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৭ পয়েন্টে নেমে গেছে। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক কমে ৫ হাজার ৩৯৯ পয়েন্টে ছিল।
মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৭৫ কোটি ৫৬ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৪৭ কোটি ২৮ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৭১ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার। ২৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- রবি, ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, বেক্সিমকো ফার্মা এবং ঢাকা ব্যাংক।
একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। এই আতঙ্ক শেয়ারবাজার খুলতেই বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ শেয়ার বিক্রির ভয়াবহ চাপ তৈরি করেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে বাজারে বড় দরপতন হয়েছে।
একটি ব্রোকারেজ হাউসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, এখন আতঙ্কে বিক্রি না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা উচিত। কারণ অনেক সময় এমন তাৎক্ষণিক পতন পরবর্তীতে আংশিকভাবে কাটিয়েও ওঠে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পুঁজিবাজার খুবই সেনসিটিভ জায়গা। বিশ্বের কোনো দেশে যখনই যুদ্ধ শুরু হয়, তার প্রভাব পুঁজিবাজারে খুবই দ্রুত সময়ে পড়ে। অতীতেও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধসহ বিশ্বজুড়ে যেসব যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে তার প্রভাব দেশের পুঁজিবাজারেও পড়েছে। এবারও ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় পুঁজিবাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এই নেতিবাচক প্রভাব আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
