নিজস্ব প্রতিবেদক: ই-করপোরেট কর রিটার্ন চালু এবং ভ্যাট আদায়ে জাতীয় মোবাইল অ্যাপ প্রবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একইসঙ্গে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ, সারচার্জ ধাপে ধাপে প্রত্যাহার, আমানতের সুদে উৎসে কর হ্রাস এবং করপোরেট করহার কমানোর সুপারিশও করেছে সংগঠনটি।
আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। ডিসিসিআইয়ের পক্ষে প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল (ভারপ্রাপ্ত) একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী।
ডিসিসিআই জানায়, ই-করপোরেট কর রিটার্ন ব্যবস্থা চালু করা হলে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো সহজ, স্বচ্ছ ও নিরাপদভাবে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবে। এতে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠবে, যা অন্যান্য করসেবার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে এবং অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন কমাবে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় আপিল ও কর ফেরত (রিফান্ড) প্রক্রিয়াও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক হিসাবে সম্পন্ন হবে, ফলে সময় ও ব্যয় উভয়ই কমবে। অটোমেটেড পদ্ধতির মাধ্যমে ভুলের সম্ভাবনা কমে যাবে এবং রাজস্ব আদায় বাড়বে বলেও মনে করে সংগঠনটি।
ডিসিসিআই প্রস্তাব করেছে, অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিয়মিত করপোরেট করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হোক। বিশেষ করে যারা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করে এবং কর-সংক্রান্ত শর্তাবলি মেনে চলে, তাদের জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব দিয়ে বলা হয়েছে, সিকিউরিটিজের সুদের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার (টিডিএস) আগের মতো ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা যেতে পারে এবং তা উৎসে করের আওতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত।
সংগঠনটি আরও প্রস্তাব করেছে, উৎসে কর্তিত কর চূড়ান্ত করদায় অপেক্ষা বেশি হলে করদাতাকে তা পরবর্তী করবর্ষে সমন্বয়ের সুযোগ দেওয়া বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (সর্বোচ্চ ৯০ দিন) রিফান্ড গ্রহণের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
ডিসিসিআই মনে করে, করহার কমানো এবং কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও সহজীকরণ করা হলে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বাড়বে। বর্তমানে বাজারে প্রায় ৩৫০টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে আরও অনেক অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানি বাজারে আসতে উৎসাহিত হবে।
এছাড়া প্রাক-বাজেট প্রস্তাবনায় সংগঠনটি আরও ৯টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উপস্থাপন করেছে, যা দেশের সামগ্রিক ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
