Print Date & Time : 14 January 2026 Wednesday 4:01 am

ই-রিটার্নের মতো সব কর-প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করতে হবে

রাজস্ব আয় দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রের পরিকাঠামোর যাবতীয় উন্নয়নসহ পরিচালনা ব্যয় এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা থেকে শুরু করে সমস্ত ব্যয়, রাজস্ব আয় থেকে নির্বাহ করা হয়। এক কথায়, আয়-ব্যবস্থাপনা যদি আধুনিক থেকে আরও অধিক আধুনিকতর করা যায়, তাহলে রাষ্ট্রে অগ্রগতি অনিবার্য। এই আয়-ব্যবস্থাকে ই-রিটার্নে পরিবর্তন করে ডিজিটালে রূপান্তরের মাধ্যমে আধুনিক যুগে প্রযুক্তির এই যে প্রবেশ তা সত্যি আশা জাগানিয়া।

দৈনিক শেয়ার বিজে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর এক বিশেষ আদেশে সব ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার জন্য (কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছাড়া) অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। সাড়াও মিলেছে ব্যাপক। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করেছেন এবং ৩১ লাখ ৮৮ হাজার করদাতা ২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। এই যে ব্যাপক সাড়া, তা সম্ভব হয়েছে হয়রানিমুক্ত ই-রিটার্ন দাখিলের প্রচলন করার কারণে। ই-রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের জন্য কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না, কিন্তু এই পদ্ধতির প্রচলন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বইচ্ছায় কর প্রদান শুরু করেছেন।

সংবাদের ভাষ্য মতে, এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি ওটিপির মাধ্যমে ই-রিটার্ন সিস্টেমে সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩০০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি বিদেশে অবস্থান করেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন।

শুধু তাই নয়, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ জন প্রবাসী করদাতা ই-রিটার্ন সংক্রান্ত সেবা গ্রহণের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন ই-ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট ইউনিটে ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন।

এই কর প্রদানের সাড়ায় সত্যি অভিভূত না হয়ে পারা যায় না। এভাবে ধাপে ধাপে কর আদায়ের প্রক্রিয়াগুলো যদি ডিজিটালাইজেন করা যায়, তাহলে একদিকে করদাতারা যেমন হয়রানিমুক্ত হবেন, অন্যদিকে তেমন কর-আয়ের মাত্রা আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পাবে। আর এভাবে দেশে হয়রানিমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, অনিয়মমুক্ত কর-ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে। আর নির্ঝঞ্ঝাট কর আদায় প্রক্রিয়ার প্রবর্তন করা গেলে একদিকে যেমন কর প্রদানকারীর সংখ্যা বাড়বে, অন্যদিকে বেড়ে যাবে রাষ্ট্রের আয়ের পরিধি।

বিশ্বে দিন দিন প্রযুক্তির পরিধি বাড়ছে। জীবনযাপনে বাড়ছে প্রযুক্তি সংযোগ। মানবসমাজকে এগিয়ে নিচ্ছে প্রযুক্তি। দূরকে আনছে কাছে। পৃথিবীর এক প্রান্তকে আরেক প্রান্তের সঙ্গে এক ক্লিকে যুক্ত করছে। এক ক্লিকে বিলিয়ন বিলিয়ন অর্থ যোগ হচ্ছে পৃথিবীর ভিন্ন প্রান্তে। এই সুবিধা এক দশক আগেও এতটা সহজ ছিল না। আজ যখন প্রযুক্তির নানা সম্মিলন মানুষের দ্বারপ্রান্তে, তখন সময়ের স্রোতে আমরাও প্রযুক্তিকে আলিঙ্গন করছি। নিজেদের আধুনিক করে গড়ে নিচ্ছি—এটা অবশ্যই আশার আলো।

ই-রিটার্নে শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে কর প্রদানের নিয়ম করা হয়েছে, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়গুলো অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি। ই-রিটার্নে কর প্রদানের অন্য পর্যায়গুলো নিয়ে ভাববার এখনই সময়। তাহলে আমরা জাতিকে সময়োপযোগী করে বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে আরও গতিশীল করে তুলতে পারব।