নিজস্ব প্রতিবেদক : সারাদেশের চার হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে মাসিক সম্মানী প্রদান শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। আজ শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই ঐতিহাসিক কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরানুল হাসানের পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, মসজিদের পাশাপাশি একই সঙ্গে ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজকসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও এ সম্মানী কার্যক্রমের আওতায় আনা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এই পাইলট প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, প্রতিটি মসজিদের জন্য মোট ১০ হাজার টাকা মাসিক সম্মানীনির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম ৫ হাজার, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে পাবেন।
একইভাবে প্রতিটি মন্দির, বৌদ্ধবিহার এবং গির্জার জন্য ৮ হাজার টাকা করে বরাদ্দ থাকছে। এর মধ্যে প্রধান পুরোহিত, বিহার অধ্যক্ষ বা যাজক পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী বা সেবাইতরা পাবেন ৩ হাজার টাকা করে।
তিনি জানান, মাসিক সম্মানীর পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসবে বোনাসের ব্যবস্থাও থাকছে। মসজিদের ক্ষেত্রে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ১ হাজার টাকা করে বছরে দুবার এবং অন্যান্য ধর্মের ক্ষেত্রে দুর্গাপূজা, বৌদ্ধপূর্ণিমা বা বড়দিনে ২ হাজার টাকা করে উৎসব বোনাস দেওয়া হবে। তবে যেসব উপাসনালয় সরকারি বা বিদেশি সংস্থার নিয়মিত অনুদান পায়, সেগুলো এই সুবিধার বাইরে থাকবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এই পাইলট কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয় হবে। পর্যায়ক্রমে আগামী চার অর্থবছরে ধাপে ধাপে দেশের সব উপাসনালয়কে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত মোট চারটি ধাপে এই বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে।
২০২৯-৩০ অর্থবছরে এই কার্যক্রম যখন সারাদেশে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে, তখন ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ের মাধ্যমে দেশের সব ধর্মীয় নেতা ও সেবকরা এই মর্যাদাপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা বলয়ে যুক্ত হবেন।
