Print Date & Time : 17 April 2026 Friday 9:29 am

উত্থানের ধারায় পুঁজিবাজার লেনদেন ৮৩৬ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পতনের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে গতকাল বুধবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) যে কয়টি শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে তার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি সংখ্যকের দাম বেড়েছে। এতে এক্সচেঞ্জটির সবগুলো মূল্যসূচকও বেড়েছে। লেনদেনেও গতি দেখা গেছে। এর ফলে লেনদেন বেড়ে ৮০০ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ সিকিউরিটিজ দরবৃদ্ধির তালিকায় থাকে। তবে শুরুর দিকে যতগুলো প্রতিষ্ঠান দরবৃদ্ধির তালিকায় ছিল, দিনশেষে সেই সংখ্যা কিছুটা কমে যায়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৯০টির। আর ৬৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
সার্বিকভাবে বেশিরভাগ শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৫৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৮ পয়েন্টে উঠেছে।
মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮৩৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৯৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৪৩ কোটি ৬ লাখ টাকা।
অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৭৫৭ পয়েন্টে উঠেছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১১৪টির এবং ৬৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
উত্থানমুখী বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ৮৩৬ কোটি টাকায় পৌঁছানোকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সূচকের পাশাপাশি লেনদেন বাড়া বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে নীতিগত স্থিতিশীলতা ও তারল্য পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের মন্দাভাব কাটিয়ে বাজারে ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে; যা সামনের দিনে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, এই ধারা টেকসই করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বাজারে সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি।
তারা বলেন, খাতভিত্তিক শক্তিশালী কোম্পানিগুলোয় বিনিয়োগ বাড়লে বাজার আরও স্থিতিশীল হবে এবং লেনদেনের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়বে।