নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে মাছ ও মাংসের বাজার পর্যন্ত। অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজি, মাছ ও মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলো।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ সবজির দাম এখন ১০০ টাকার ওপরে। ব্যবসায়ীরা জানায়, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়ায় মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কাঁকরোল প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়, বেগুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, শসা ১১০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ১১০ টাকা এবং বরবটি ১০০ টাকায়। চিচিঙ্গা প্রতিকেজি ৯০ টাকা। এ ছাড়া পটল, ধুন্দল ও অন্যান্য সবজির দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
অন্যদিকে তুলনামূলক কম দামের সবজির মধ্যে টমেটো ৬০ থেকে ৭০ টাকা, লাউ ৬০ থেকে ৭০, ঢেঁড়স ৬০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি ৮০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিউমার্কেট এলাকার এক খুচরা বিক্রেতা জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে ট্রাকভাড়া ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আগে যেখানে নির্দিষ্ট দূরত্বে পণ্য আনতে যে খরচ হতো, এখন তার সঙ্গে অতিরিক্ত ২ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত যোগ হয়েছে। ফলে পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, সবজির দাম বাড়া কমা সাধারণত ফলন ও আমদানির ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এছাড়া গরমের কারণে দ্রুত পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি সামাল দিতে বাড়তি দাম রাখছেন।
শুধু সবজির বাজারই নয়, মাছ ও মাংসের বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে মাছ ও মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এসব পণ্য ক্রয় করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১২৫০ টাকায়।
মাছের বাজারেও একই ধরনের চিত্র। পাঙাশ ও তেলাপিয়া তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও সেগুলোর দামও এখন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে। অন্যদিকে রুই, কাতলা বা অন্যান্য মাছ ৪২০ থেকে ৪৮০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।
কারওয়ান বাজারের এক মাছ বিক্রেতা জানান, আগে যে মাছ আনতে ৫ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন সেই একই পরিমাণ মাছ আনতে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ শৃঙ্খলে ধাপে ধাপে দাম বাড়ানো হচ্ছে। গত এক-দুই মাসে বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা মূল্য বৃদ্ধি করায় চূড়ান্তভাবে এর চাপ এসে পড়ছে ভোক্তাদের ওপর। বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
ক্রেতাদের অভিযোগ, তাদের আয় অপরিবর্তিত থাকলেও প্রতিনিয়ত বাজারদর বাড়ছে। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে যেখানে সপ্তাহে দুই দিন মাছ বা মাংস কেনা যেত, এখন অনেকেই একদিনও কিনতেও পারেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তদারকি, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং পরিবহন খরচ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ না নিলে এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। জ্বালানি তেলের দাম যদি আরও বাড়ে, তাহলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রধান প্রত্যাশাÑবাজারদর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। অন্যথায় জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

Print Date & Time : 25 April 2026 Saturday 3:02 am
ঊর্ধ্বমুখী সবজি, মাছ ও মাংসের দাম
দিনের খবর ♦ প্রকাশ: