নিজস্ব প্রতিবেদক : একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে বাংলাদেশের রাজনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে ও জনগণের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, একাত্তরের চেতনা ও চব্বিশের জুলাই বিপ্লব ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাম প্রগতিশীল দলগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’-এর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ গণমাধ্যমকে আলোচনার বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, মূলত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তারেক রহমানকে সান্ত্বনা জানাতে এবং শোক বইয়ে সই করতে তারা সেখানে গিয়েছিলেন। পরে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
বজলুর রশিদ ফিরোজ জানান, তারেক রহমান বৈঠকে বলেন, ‘একাত্তর হচ্ছে আমাদের ভিত্তি, কারণ মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকে না। একাত্তরের সেই চেতনা, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের আকাক্সক্ষাকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগোতে হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের সমাজে আস্তিক-নাস্তিক, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী বা সংশয়বাদীÑসবাই থাকবে। সবাইকে নিয়ে আমরা একটি উদার গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই।’
বৈঠকে বাম নেতারা রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পরমতসহিষ্ণুতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। তারা দাবি জানান, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তি যেন রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। জামায়াতে ইসলামীর ‘জাতীয় সরকার’ গঠন সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে কথা উঠলে তারেক রহমান পরিষ্কার করেন, এই বিষয়ে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, ‘বাইরে হয়তো তারা (জামায়াত) বলছে, কিন্তু আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো কথা হয়নি। আমাদের শুধু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়ে কথা হয়েছে।’
বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, ‘ভবিষ্যতে আপনারা সরকারে গেলে হয়তো আমরাই (গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট) বেশি সমালোচনা করব।’ জবাবে তারেক রহমান ইতিবাচকভাবে বলেন, ‘অবশ্যই সমালোচনা থাকবে। সমালোচনা না থাকলে গণতন্ত্র হয় কীভাবে? সমালোচনাও থাকবে আবার আলোচনাও চলবে।’
বৈঠকে বিএনপির পক্ষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্কাফী রতন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ নভেম্বর বাংলাদেশ জাসদসহ ৯টি বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল নিয়ে ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ গঠিত হয়েছে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post