Print Date & Time : 13 May 2026 Wednesday 6:13 pm

এক মোড়কে বন্দি দেশ ও মানুষ বদলের গল্প

কোনো বই বা প্রকাশনার আলোচনা করা সত্যিই কঠিন কাজ। তার ওপর সেটি যদি হয় শেয়ার বিজের মতো স্বনামধন্য পত্রিকার বিশেষ ঈদ সংখ্যার আলোচনা তা তো আরো জটিল। ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে শেয়ার বিজ তারুণ্যে বদলাবে বাংলাদেশ স্লোগানে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। এটির বাইরের মোড়কের চেয়ে ভেতরে কালো কালিতে ছাপা লেখাগুলো যেকোনো পাঠকের নজর কাড়বে।

অরণ্য আজাদ: ঈদ সংখ্যাটিতে অন্যদের মতো গদবাঁধা সম্পাদকীয় লেখা হয়নি। এখানে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ কিভাবে গড়ে তো সম্ভব তার পরিস্কার ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের বীজ বোনার অন্যতম দাবি ছিল বাঙালি জাতীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়া। তবে লাখো প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন হলেও বৈষম্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ রূপান্তরে আমরা বেশ পিছিয়ে। তবে আশার কথা ২০২৪ সালে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দেশের তরুণ প্রজন্ম আবারও এগিয়ে আসে। এতে দেশের মানুষ আজ নতুন করে স্বপ্ন দেখছে- এবার হবে সত্যিকারের বৈষম্যমুক্ত তথা অর্থনীতিতে সমঋদ্ধ বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে খুব শিগগিরই বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাড়াবে। তাই এখন আমাদের জাতীয় স্লোগান হওয়া দরকার ‘ভালো মানুষ ভালো দেশ, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ’।

ঈদ সংখ্যার প্রতিপাদ্য বিষয়ক লেখা তারুণ্যে বদলাবে বাংলাদেশ প্রবন্ধটি লিখেছেন খ্যাতিমান লেখক আব্দুল্লা আল মামুন। তিনি সেখানে লিখেছেন- স্বাধীনতার পর প্রায় পঞ্চান্ন বছর কেটে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা অনেক কিছু পেয়েছি। পক্খান্তরে অপ্রাপ্তি বা বঞ্চনার তালিকাও বেশ লম্বা। এর মধ্যে অনেক চরাই উৎরাই পেরিয়ে ২০২৪ এ তরুণদের কল্যাণে জাতী নবরূপে যাত্রা শুরু করেছে। একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। আজকের এই নতুন সম্ভাবনা ও নতুন মাত্রা মুলত পুরোনো হতাশা ভুলে নয়া উদ্যোমে নতুন দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে ব্যক্তি, সমাজ বা রাষ্ট্রের ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন স্বপ্ন পুরণের পথে এগিয়ে যাওয়া।

এবারের ঈদ সংখ্যায় পত্রিকার সম্পাদক মীর মনিরুজ্জামান ভাইয়ের একটি শিক্ষণীয় ‘নিজের শান্তি খুঁজতে অন্যের মঙ্গলে হাত বাড়ান’ শিরোনােমের লেখা প্রকাশ হয়েছে। সেখানে তিনি লিখেছেন- আমাদের চারপাশে অসংখ্য মানুষ একটি প্রশ্নে জর্জর তা হলো: কত চেষ্টা, কত পরিশ্রম; তবুও কেনো এই অশান্তি? কেনো এই চক্র থেকে বের হওয়া যায়না।
এখানে মাত্র কয়েকটি লাইনে তিনি এ পশ্নে জবাব কী সেটি তুলে ধরেছেন। সেখানে লিখেছেন, আমরা সবাই নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত যে, স্ত্রী-সন্তান ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে ভাবার সময় নেই। অনেকে মা-বাবা ও ভাই বোনের খবর ও নিতে পারেন না। আমরা সবাই আল্লাহর নাম মুখে নেই ঠিকই, কিন্তু তার উপর পূর্ণ ভরসা নেই। সবাই তাওয়াক্কুলের কথা বলে কিন্তু হৃদয়ের গভীরে কি সত্যিই তাওয়াক্কুল আছে?
আসলে আমাদের সবার জীবন একটি সরল সত্যের ওপর দাড়িয়ে- সেটি হলো আপনি যখন আল্লাহর উপর শতভাগ বিশ্বাস রেখে অন্যের জন্য কাজ করবেন তখনই আপনার নিজের শান্তি ও সমৃদ্ধি আসবে- এটাই মহান আল্লাহর ওয়াদা।
তাইতো তিনি কোরআনে কারিমে বলেছেন- ‘আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট’।- সুরা আত-তালাক, ৬৫:৩

তবে ঈদ সংখ্যায় যে লেখাটি আমাকে কাঠে টেনেছে সেটি সাইফুল ইসলাম দিলাল ভায়ের লেখা মাতৃভাষায় কেরআন জানা প্রয়োজনীয়তা। সেখানে তিনি লিখেছেন মহাঐশী গ্রন্থ পবিত্র কোরআন সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের জন্য মহান আল্লাহর নির্দেশনা, উপদেশ তথা অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। পবিত্র কোরআনের শব্দবিন্যাস, ছন্দ, সৌন্দর্য, ব্যঞ্জনা, অন্তর্নিহিত শক্তি ও গভীরতা তুলনাহীন।

পৃথিবীর অন্যতম মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর মাতৃভাষা ছিল আরবিতে নাজিল হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি প্রত্যেক রাসুলকেই তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি, তাদের কাছে (ধর্মকে) পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত-৪)

পবিত্র কোরআন যেহেতু দল-মত-জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের হেদায়েতের জন্যই নাজিল হয়েছে, সমগ্র মানবজাতির জন্য কোরআনকে সহজ করা হয়েছে।

পবিত্র কুরআনের আদেশ-নিষেধ বোঝা ও আমল করার জন্য মাতৃভাষায় পড়া ও বোঝার গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা যদি পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের পর মায়ের ভাষায়; অর্থাত্ বাংলায় অর্থ পড়ি তাহলে আল্লাহপাকের নির্দেশগুলো মেনে চলা আমাদের জন্য অনেক সহজ হবে। এর মধ্যে দিয়ে আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে সীমাহীন কল্যাণ লাভ করতে পারব।

আল কোরআন বাংলামর্মবাণীর লেখক শহীদ আল বোখারী মহাজাতক মুখবন্ধে লিখেছেন, আমরা কোরআন পড়েছি বহুবার। কিন্তু তেমন কিছুই বুঝিনি, ভেতরে ডুব দিতে পারিনি কখনও। যখন এক নীরব মুহূর্তে কোরআনের গভীরে ডুবে গেলাম, আয়াতগুলো যেন কথা বলতে শুরু করল। এক জীবনে যা চাই, তার সবই সাজানো রয়েছে কোরআনের পরতে পরতে। সুস্থ সুন্দর সুখী পরিতৃপ্ত জীবনের জন্যে যা প্রয়োজন, পাতায় পাতায় রয়েছে তারই দিকনির্দেশনা।

সবকিছু মিলিয়েই জীবন। তাই সমস্যা শরীরের হোক বা মনের, যৌন জীবনের জট হোক বা অর্থনৈতিক জটিলতা, পণ্যের আসক্তি হোক বা প্রবৃত্তির দাসত্ব, ব্যক্তির অসততা হোক বা সামাজিক অবিচার, পার্থিব সুখ হোক অথবা পরকালীন পরিত্রাণ, সব একই সূত্রে গাঁথা। কোরআন সেই চিরায়ত সত্যকেই প্রকাশ করেছে সুস্পষ্টভাবে।

তাইতো এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, কোরআন শতাব্দীর পর শতাব্দী জীবন ও জগৎ সম্পর্কে কোটি কোটি মানুষের অন্তর্দৃষ্টি খুলে তাদের বদলে দিয়েছে ভেতর থেকে। খুলে দিয়েছে তাদের সম্ভাবনার দ্বার, দিয়েছে প্রশান্ত ও পরিতৃপ্ত জীবন। তাই আল্লাহর কালামের মর্মবাণীতে আন্তরিকভাবে নিমগ্ন হোন, বারবার পড়ুন, ডুবে যান শব্দের গভীরে, বাক্যের গভীরে। কোরআনই আপনার সঙ্গে কথা বলবে, আপনিও বদলাতে শুরু করবেন ভেতর থেকে।

তবে, উপরে আলোচিত বিষয়গুলো ছাড়াও ঈদ সংখ্যায় ‘অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সাম্য ও স্বাধীনতা, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের, ​আলোকিত জীবন ইতিবাচকতার স্বপক্ষে, মোহাম্মদ মাহমুদউজ্জামানের ভালো মানুষের দেশ সম্ভাবনাময় দেশ, ডা. মনিরুজ্জামাসের ​কী খাবেন? কেন খাবেন?, ফাহমিদা ইসলাম ফারিয়ার সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে প্রয়োজন প্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি, সৈয়দা আরজুমা আখতারের ​দাম্পত্য, পরিবার ও আত্মীয়তায় ক্ষমার দিব্য আলো, আজিজুল পারভেজের ​বৈষম্যমুক্তি: যে আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণই থাকছে, এফ আই মাসউদের ​নীতি-নৈতিকতা শুদ্ধাচার শিক্ষা সন্তানের কাছে বাবার চিঠি, আনোয়ার হোসেন সোহেলের ​আরিফুর রহমানের বহুমাত্রিক জীবনের গল্প, হাসান শিরাজীর ​কেমন হতে পারে আগামীর মসজিদ?, ডা. আহমদ মরতুজা চৌধুরীর ​দুর্ব্যবহারের ঋণ শোধ হবে একদিন’ শিরোনামের লেখাগুলোও সব পাঠকের ভালো লাগবে এবং ব্যক্তি জীবনে অনেক উপকারে আসবে।