Print Date & Time : 16 May 2026 Saturday 12:40 am

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে বাড়ছে আমানত ও লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দিন যতই যাচ্ছে ‘এজেন্ট ব্যাংকিং’ শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে গ্রামেগঞ্জে মানুষের ভরসা হয়ে উঠেছে। এ কারণে ‘এজেন্ট ব্যাংকিং’-এ লেনদেন বাড়ছে। শুধু লেনদেনেই নয় আমানত বাড়ছে। গত বৃহস্কতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকদের জমানো টাকার পরিমাণ (আমানত) ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় এই সেবা অভাবনীয় জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যেখানে মোট আউটলেটের প্রায় ৮৫ শতাংশই অবস্থিত। আলোচ্য সময়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা। আগের বছর একই সময়ে লেনদেন হয়েছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ৫১ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে লেনদেন বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘এজেন্ট ব্যাংকিং স্ট্যাটিস্টিকস’ প্রতিবেদন বলছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাস শেষে সারা দেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ। আগের বছর একই সময় আমানত ছিল ৪২ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা। বর্তমানে এই সেবায় মোট ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৬৪ লাখের বেশি। এর মধ্যে ২ কোটি ২৩ লাখের বেশি হিসাবই গ্রামের মানুষের।
বিদেশে থাকা প্রবাসীরাও এখন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের টাকা রেমিট্যান্স পাঠায়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেশে এসেছে ৮ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকার রেমিট্যান্স। এই রেমিট্যান্সের বড় একটি অংশই পৌঁছে গেছে গ্রামের মানুষের হাতে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ৯ দশমিক ৮ গুণ বেশি রেমিট্যান্স গ্রহণ করছেন।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ এখন চোখে পড়ার মতো। মোট আমানত হিসাবের প্রায় অর্ধেক (৪৯ দশমিক ৭ শতাংশ) এখন নারীদের নামে। এছাড়া, নারী এজেন্টের সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। বর্তমানে দেশের মোট এজেন্টের ১০ দশমিক ৩ শতাংশ নারী। যা গত বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি ।
বর্তমানে দেশে ৩০টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। গত মার্চ পর্যন্ত এসব ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৩৩৯টি। এর মধ্যে আউটলেটের সংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক, যাদের মোট আউটলেটের সংখ্যা ৫ হাজার ৬১৭টি। এর পরেই রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ব্যাংক এশিয়া। আমানত সংগ্রহের ক্ষেত্রেও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ শীর্ষ স্থান দখল করে আছে। যেখানে তাদের আমানত প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকের বড় শাখা যেখানে নেই, সেখানে এজেন্ট ব্যাংকিং এক বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, সরকারি সহায়তার টাকা তোলা এবং সঞ্চয় করার সুবিধা গ্রামের মানুষের জীবন সহজ করে দিয়েছে। সহজ কথায়, ব্যাংকিং সেবা এখন মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে গেছে।