Print Date & Time : 28 April 2026 Tuesday 5:02 pm

এমপিদের সুবিধা বাতিল রাজনীতিতে নতুন বার্তা

সংসদ সদস্যদের জন্য বিদ্যমান শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির বিশেষ সুবিধা বাতিল করে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘মেম্বারস অব পার্লামেন্ট (রেমুনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। জনপ্রতিনিধিদের (এমপি) শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল হওয়া একটি সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই বিশেষ সুবিধা কেবল অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রতীকই ছিল না, বরং জনসেবার মূল দর্শনের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক ছিল।
জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জন্য এমন বিলাসবহুল সুবিধা বহাল রাখা একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, অন্যদিকে সাধারণ করদাতাদের সঙ্গে একটি অস্বস্তিকর বৈষম্যও তৈরি করেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় যখন সরকার ব্যয়সংকোচন ও আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর জোর দিচ্ছে, তখন এই ধরনের সুবিধা প্রত্যাহার একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করেÑরাষ্ট্র পরিচালনায় মিতব্যয়িতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্ব এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
এই সুবিধা বাতিল হওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতিতে খুব বড় ধরনের পরিবর্তন আসবেÑএমনটা না হলেও এ সিদ্ধান্ত অবশ্যই তাৎপার্যপূর্ণ বার্তা। ক্ষমতা যে ভোগবিলাসের বিষয় নয়, তার অনেকখানি এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে। এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। জনপ্রতিনিধিত্বের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণে কাজ করা, ব্যক্তিগত সুবিধা ভোগ নয়। শুল্কমুক্ত গাড়ির মতো সুবিধা অনেক সময় রাজনীতিকে সেবামূলক পেশা থেকে সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর প্রতিযোগিতায় রূপান্তরিত করে। ফলে এই বিল পাসের মাধ্যমে সেই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার একটি প্রয়াস লক্ষ করা যাচ্ছে।
বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে, যা ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দেয়। গণতন্ত্রে এমন ঐকমত্যমূলক সিদ্ধান্তই কাক্সিক্ষত, যেখানে দল-মত নির্বিশেষে জনগণের স্বার্থ প্রাধান্য পায়। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংস্কার কার্যক্রমে সব পক্ষের অবদান যথাযথভাবে স্বীকৃতি পেলে তা আরও গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোÑএই সিদ্ধান্ত যেন কেবল প্রতীকী পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ না থাকে। রাষ্ট্রীয় খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, অন্যান্য অযৌক্তিক সুবিধা পর্যালোচনা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি সূচনা হতে পারে। জনগণ প্রত্যাশা করে, তাদের প্রতিনিধিরা নিজেদের জন্য নয়, বরং দেশের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করবেন।
অতএব, শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিলের এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি শুধু একটি আর্থিক সংস্কার নয়, বরং রাজনৈতিক নৈতিকতার পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন দেখার বিষয়Ñএই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে রাষ্ট্র পরিচালনায় আরও কতটা জবাবদিহিতা ও ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠা করা যায়। বিশেষ করে প্রশসানের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়া দুর্নীতিকে রোধ করা না গেলে এ ধরনের ভালো সিদ্ধান্ত কোনো কাজে আসবে না। বর্তমান সরকারের কাছে জনগণের অনেক প্রত্যাশা। আর সেই প্রত্যাশা পূরণে যা যা করণীয় সরকারকে সবই করতে হবে।