এফ আই মাসউদ : গৃহস্থালীর রান্নার কাজে ব্যবহƒত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম জানুয়ারি মাসে এক ধাক্কায় ৫৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী সিলিন্ডারটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩০৬ টাকা, যা ডিসেম্বর মাসে ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা। এর আগের মাসে দাম বেড়েছিল ৩৮ টাকা।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সন্ধ্যা ৬টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে। তবে নির্ধারিত দামে বাজারে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। সরবরাহ সংকটের কারণে গত এক মাস ধরে প্রতি সিলিন্ডারে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।
বিইআরসির নতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৮ টাকা ৮৩ পয়সা, যা আগের মাসে ছিল ১০৪ টাকা ৪১ পয়সা। অর্থাৎ এক মাসে কেজিতে দাম বেড়েছে ৪ টাকা ৪২ পয়সা। একই হারে বাজারে থাকা অন্যান্য মাপের সিলিন্ডারের দামও বাড়ানো হয়েছে। তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রেখে ৮২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গাড়িতে ব্যবহƒত অটো গ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটো গ্যাসের দাম ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা করা হয়েছে, যা লিটারে ২ টাকা ৪৮ পয়সা বৃদ্ধি।
বিইআরসি জানায়, সৌদি আরামকোর ঘোষিত জানুয়ারি মাসের প্রোপেন ও বিউটেনের সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) অনুযায়ী এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। জানুয়ারিতে প্রোপেনের সিপি ধরা হয়েছে প্রতি মেট্রিক টন ৫২০ ডলার এবং বিউটেনের সিপি ৫২৫ ডলার। ৬৫:৩৫ অনুপাতে মিশ্রণ ধরে গড় সৌদি সিপি দাঁড়িয়েছে ৫২১ দশমিক ৭৫ ডলার।
এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদা থাকলেও খুচরা দোকানগুলোয় সিলিন্ডার মিলছে না। কোথাও কোথাও পাওয়া গেলেও নির্ধারিত দামের চেয়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রাহকেরা।
বনশ্রীর বাসিন্দা গণমাধ্যমকর্মী পীর জুবায়ের বলেন, লাইনে গ্যাস না থাকায় রান্না করা যায়নি, আবার এলপিজিও পাওয়া যাচ্ছে না।
কারওয়ান বাজারের চা দোকানদার নূর ইসলাম জানান, ১২ কেজি সিলিন্ডার ১৮০০ থেকে ২১০০ টাকায়ও পাওয়া যাচ্ছে না, এতে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সৌরভ বলেন, সরকারি রেট মানা হচ্ছে না, দিগুণ দামে এলপিজি কিনতে হচ্ছে।
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, খুচরা পর্যায়ে ঘোষিত দাম মানা হবে এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে পারব না। তবে অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি। অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এরই মধ্যে কেরানীগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাজার অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে মজুত বা অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত। এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। আমদানিকারক কোম্পানির চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের দাম হিসাব করে বিইআরসি।
প্রিন্ট করুন







Discussion about this post